Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া-সাহিত্য-পত্রিকা-দৈনিক-সেরা-সম্মাননা

#গল্প
#মিকি_আর_ঢিকিঢিকি
#সায়ন্তনী_পলমল_ঘোষ

    " আমার খোলা হাওয়া….।" মিকির মা গুনগুন করে গান গাইছেন। মিকি মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবলো তাহলে বড়দেরও মামাবাড়ি যাওয়ায় সময় ছোটদের মত আনন্দ হয়।
মিকিরা চলেছে মিকির মায়ের মামাবাড়ি আ…


#গল্প
#মিকি_আর_ঢিকিঢিকি
#সায়ন্তনী_পলমল_ঘোষ

    " আমার খোলা হাওয়া….।" মিকির মা গুনগুন করে গান গাইছেন। মিকি মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবলো তাহলে বড়দেরও মামাবাড়ি যাওয়ায় সময় ছোটদের মত আনন্দ হয়।
মিকিরা চলেছে মিকির মায়ের মামাবাড়ি আমডোবা গ্রামে। মিকির মায়ের বড়মামার ছেলে মিকির ঘল্টু মামার বিয়ে। ছোটবেলায় বার দুয়েক আমডোবা গ্রামে গিয়েছে মিকি। ঘল্টু মামার বিয়েটা গরমের ছুটির মধ্যে পড়েছে বলে ভারী সুবিধা হয়েছে। মিকি আর ওর মা, দিদু আর দাদুর সাথে দুদিন আগে থেকেই চলে যাচ্ছে। মিকির বাবা,দাদু-ঠাম্মি আর মামা বিয়ের দিন সকাল-সকাল পৌঁছে যাবে। উফফ! যা মজা হবে না ভাবলেই মিকির গাড়ির মধ্যেই লাফাতে ইচ্ছে করছে। 

    মিকির মায়ের দিদা-দাদু এখনও জীবিত। মিকি তাঁদের বড়মা আর বড়বাবা বলে ডাকে। মিকিরা পৌঁছতেই তাঁরা তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন।  মামা,মাসীরা সকলে মিকিকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিল। ঘল্টু মামা যখন মিকির হাতে গাছ থেকে পেড়ে আনা ডাবের জল ধরিয়ে দিল তখন মিকি তার মনের মধ্যে বুরবুড়ি কাটা প্রশ্নটা করেই ফেলল," আচ্ছা ঘল্টু মামা, পুলিশরা তো পুজোর সময়ও নতুন জামা পরে না। ওই পুলিশের ড্রেস পরেই থাকে তাহলে তুমি কি পুলিশের ড্রেস পরেই বিয়ে করতে যাবে ? ধুতি-পাঞ্জাবী পরবে না?"  মিকির প্রশ্ন শুনে সবাই হা হা করে হেসে উঠলো। ঘল্টু মামা হাসতে হাসতে বলল," কথাটা তুই মন্দ বলিস নি। পুলিশের ড্রেসটা পরেই চলে গেলে হয়।"  কথাবার্তার মাঝেই বড়দিদু এসে তাড়া দিলো," চল চল সবাই হাতমুখ ধুয়ে কিছু মুখে দাও। সেই কোন সকালে বেরিয়েছ।"

      মিকির মায়ের মামাবাড়িটা ভারী মজার। বিশাল দোতলা পাকা বাড়ি, স্কুলবাড়ির মত পরপর ঘর আর তার সামনে চওড়া বারান্দা ওপরে, নিচে দুজায়গাতেই।  নিচতলায় তো আবার ঘেরা বারান্দার সামনে আরেকটা খোলা বারান্দা। সেই বারান্দার একপাশে  দুটো পেয়ারা গাছ দোল খাচ্ছে।  মিকির আর মিকির মায়ের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে দোতলার একটা ঘরে। দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়ার পর মিকির চোখে ঘুমপাড়ানি মাসী-পিসি এসে জাঁকিয়ে বসল। সে পালংকে উঠে পাশ বালিশটাকে জাপটে ধরে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। সবাই নিচে গল্পে মত্ত। মিকির যখন ঘুম ভাঙলো বিকেল গড়িয়ে এসেছে। মিকি খাটের ওপর বসে চোখ ঘষতে লাগলো। " ফুঁচ,ফুঁচ,ফুঁচ"  একটা মৃদু আওয়াজ কানে আসতেই মিকি চোখ ঘষা বন্ধ করে চারিদিকে তাকালো। এই ঘরে তো সে ছাড়া আর কেউ নেই তাহলে আওয়াজটা হচ্ছে কিসে! সে ভালো করে তাকিয়ে দেখে ঘরের উত্তর দিকে যে জানালাটা আছে তাতে রোগা লিকলিকে একটা লোক শুধু মাত্র একটা গামছা পরে বসে আছে। মজার ব্যাপার হল লোকটার শরীরটা কেমন সাদাটে ধোঁয়ার মত। তার কাছ থেকেই আওয়াজটা আসছে।
" তুমি কে গো? এখানে কি করছ?" মিকি প্রশ্ন করে তাকে।
" বুঝতে পারছ না আমি ভুত।" লোকটা ঝাঁঝিয়ে উঠলো। লোকটার মেজাজ দেখে মিকির ভারী রাগ হলো। সেও চোখ বড় বড় করে বলল," তুমি যে ভুত সেটা কি আর আমার বুঝতে বাকি আছে। ওই ধোঁয়ার মত চেহারা কি আর মানুষের হয়। আমি জাস্ট কনফার্ম করার জন্য জিগ্যেস করলাম বুঝলে।"
" তুমি আমাকে দেখে ভয় পেলে না?" এবার নরম গলায় জিজ্ঞেস করল লোকটা।
" ফুহ! ভুতকে আবার কেউ ভয় পায় নাকি? যাই হোক তুমি জানালায় বসে কি করছ? ভাগ্যিস আমার মা আসেনি এঘরে নাহলে অজ্ঞান হয়ে যেত। মা আবার ভুতকে ভারী ভয় পায়।" মিকি পনিটেল দুলিয়ে বলল।
ভুতটা নাক থেকে সাদাটে ধোঁয়ার মত কি একটা বার করে জানালার বাইরে ফেলল।
" কি ফেললে গো?"
" সর্দি, কেঁদে কেঁদে নাকে সর্দি হয়ে গেছে।"
মিকির চোখগুলো ছানাবড়া হয়ে গেল," ভুতেদের   সর্দি হয়! আর তুমি কাঁদছই বা কেন?"
" মানুষের সর্দি হলে ভুতের হবে না কেন? আর কাঁদার কথা বোলো না। ভুতেদের কি কম দুঃখ?" ভুতটা আবার ফুঁচ ফুঁচ করে কাঁদতে লাগলো।
" আহা, কেঁদো না এত। তোমার কি দুঃখ আমাকে বল। দাদু বলে শেয়ার করলে দুঃখ কমে যায়।" মিকি বেশ বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল ভুতটাকে।
" এত করে বলছ যখন তখন বলেই ফেলি তোমাকে। তুমি বেশ ভালো মেয়ে বোধ হচ্ছে। আগে একটু মাফ চেয়ে নিই। ওই প্রথমে একটু মেজাজ দেখিয়েছিলাম তো তাই।"
" আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে। আমি কিছু মাইন্ড করিনি। এবার বল।" মিকি ভালো করে গুছিয়ে বসলো।
" বুঝলে, আমি এই এলাকার বিখ্যাত চোর ছিলাম। আমার জ্বালায় লোকে তিষ্ঠাতে পারত না। তারপর হলো কি একটু বুড়ো হতে না হতেই অসুখে পড়ে মরে গেলাম। মরার পরে ভুতরাজ্যে গেলাম। বেশ ভালোই ছিলাম সেখানে কিন্তু ওই বলে না স্বভাব যায় না মলে। আমার হলো সেই দশা। ওখানেও শুরু করলাম টুকটাক। এই করতে করতে যেদিন ভুতরাজ্যের রানীর পচা গুগলির আচারের বয়াম চুরি করলাম সেদিন ধরা পড়ে গেলাম রাজার মন্ত্রী মামদো ভুতের হাতে। রাজা মশাই শাস্তির বিধান দিয়ে ভুতরাজ্য থেকে নির্বাসন দিয়ে দিলেন। এবার আমি কি করি বল দেখি তুমি? রাজামশাইয়ের শর্ত পূরণ করতে না পারলে ভুত রাজ্যে আর ফেরা হবে না। ফিরতে না পারলে ভারী মুশকিল হবে। কোনও ঝুপসি গাছে কিংবা কোনও ভাঙা বাড়ির ঘুলঘুলিতে ঝুলে থাকতে হবে।" ভুতটা আবার কান্না জুড়লো।
মিকি বিরক্ত হয়ে বলল," উফফ! ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কেঁদো না তো শুধু। রাজামশাই কি শর্ত দিয়েছেন সেটা তো বলবে।"
" রাজামশাই বলেছেন আমাকে তিনটে ভালো কাজ করতে হবে তবে আমি ভুতরাজ্যে ফিরতে পারব।" 
" তাতে সমস্যা কি? চটপট করে ফেল তিনটে ভালো কাজ।"
" আরে, যতদিন বেঁচে ছিলাম একটাও ভালো কাজ করেছি নাকি। এখন কি করে কেমন করে ভালো কাজ করব সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।" আবার কাঁদতে বসলো ভুতটা।
" তুমি তো ভারী দুস্টু লোক ছিলে। যাইহোক এমন করে কেঁদো না। আমি তোমাকে হেল্প করতে পারি তবে একটা শর্তে।"
" তুমিও শর্ত দেবে! যাই হোক বল।"
" তুমি চুরি করা ছেড়ে দেবে। ভালো লোক মানে ভালো ভুত হয়ে যাবে।" মিকি চোখ পাকিয়ে বলল।
" ঠিক আছে তাই হবে। দুস্টুমি করার বিপদ অনেক সেতো বুঝতেই পারছি। বেঁচে থাকতে এক দুবার ভেবেছিলাম যে চুরি ছেড়ে দেব কিন্তু টানা তিনদিন চুরি না করলেই আমার হয় আমাশা নয় বায়ু বৃদ্ধি নয়ত বা জোরদার অম্বল হয়ে যেত। একদিন চুরি না করলেই তো আমার চোঁয়া ঢেকুর দিতে আরম্ভ করত কিন্তু এখন সে জীবনও নেই আর চুরি করেও আর সুখ নেই। যা জন্ডিস কেস হয়ে গেল আমার সাথে! এবার থেকে ভদ্রলোক থুড়ি ভদ্র ভুত হতেই হবে । "
" আচ্ছা, তোমার নামটা তো এখনও জানা হলো না।"