অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা সদরের ব্লক তমলুক। এই ব্লকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জল নিকাশি পায়রাটুঙ্গী খাল। পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় চাষাবাদ প্রায় বন্ধের পথে। বর্তমানে এই খাল দিয়ে জল যাতায়াত বন্ধে এলাকা …
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা সদরের ব্লক তমলুক। এই ব্লকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জল নিকাশি পায়রাটুঙ্গী খাল। পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় চাষাবাদ প্রায় বন্ধের পথে। বর্তমানে এই খাল দিয়ে জল যাতায়াত বন্ধে এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে খাল পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার তমলুক ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করল কৃষক সংগ্রাম কমিটি।
বিগত প্রায় ১৫ বছর এই খালটি সংস্কার হচ্ছিল না। এলাকার ভুক্তভোগী চাষী থেকে জনসাধারণ প্রচন্ড সমস্যায় মধ্যে পড়ে দলমত নির্বিশেষে কৃষক সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলে প্রতিবাদ আন্দোলনের নানান কর্মসূচি নিতে থাকলে শেষ পর্যন্ত গতবছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বর্তমান বছর 'নো কস্ট' পদ্ধতিতে খাল সংস্কারের কাজ শুরু করে। প্রথম থেকেই এই খাল ঢিমে তালে সংস্কার হওয়ার অভিযোগ আসছিল এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। খাল সংস্কারের কাজের মাঝেই বর্ষা নামে। পরে বর্ষার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকার জল জমতে শুরু করেছে। ভারী বর্ষাতে বেশ কিছু রাস্তাঘাট ডুবে রয়েছে। অতি কষ্টে কিছু জমিতে চাষাবাদ হলেও অতিরিক্ত জল জমার কারণে সেগুলি জলের তলায় চলে গেছে। মাথায় হাত চাষীদের। এমতাবস্থায় আপৎকালীন উপায়ে খাল সংস্কারের দাবিতে আজ তমলুক বিডিও'র নিকট তমলুক ব্লক কৃষক সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি সুদর্শন সামন্ত, সম্পাদক শশাঙ্ক আদক, সহ-সম্পাদক শম্ভু মান্না। বিডিও ওয়াসিম রেজা স্মারকলিপি গ্রহণ করে সমস্যাগুলির সাথে সহমত পোষণ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তমলুক ব্লক কৃষক সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক শশাঙ্ক আদক, সহ সম্পাদক শম্ভু মান্না বলেন, দীর্ঘদিন খাল সংস্কার না হওয়ায় এলাকার জনসাধারণকে নিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামলে গত বছর খাল সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তা অসম্পূর্ণ হয়ে রয়েছে। এখন খালে কচুরিপানা ভর্তি। এমনই জরাজীর্ণ যে, রূপনারায়ন নদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই খাল, তাতেও জল নামছে না। বর্তমানে ৪-৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জল জমে রয়েছে। আজ আমরা বিডিও'র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। যাতে এখনই কচুরিপানা সহ আপৎকালীন সংস্কার করে। বাড়তি জল বেরোনোর ব্যবস্থা করা হয় এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই খালটি সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়।। আমাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবো।
