দীঘা , কাজল মাইতি, দেশ মানুষ : মাঝসমুদ্রে আচমকাই বিকল ট্রলারের ইঞ্জিন। চোখের সামনে আদিগন্ত জলরাশি, আর মাথার ওপর দ্রুত নেমে আসছে জমাট অন্ধকার। গন্তব্যে পৌঁছনোর মাত্র আধ ঘণ্টা আগে যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন পর্যটকর…
দীঘা , কাজল মাইতি, দেশ মানুষ : মাঝসমুদ্রে আচমকাই বিকল ট্রলারের ইঞ্জিন। চোখের সামনে আদিগন্ত জলরাশি, আর মাথার ওপর দ্রুত নেমে আসছে জমাট অন্ধকার। গন্তব্যে পৌঁছনোর মাত্র আধ ঘণ্টা আগে যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন পর্যটকরা। শুক্রবার রাতে দিঘার উপকূলে এমনই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির শিকার হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার এক দল পর্যটক। তবে শেষমেশ দিঘা কোস্টাল থানার পুলিশের ক্ষিপ্রতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সলিল সমাধির মুখ থেকে ফিরে এসে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ২৩ জন পর্যটকই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে পাথরপ্রতিমা থেকে একটি ট্রলার ভাড়া করে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ওই পর্যটক দলটি। সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে করতেই আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু দিঘা পৌঁছনোর ঠিক আধ ঘণ্টা আগে মাঝসমুদ্রে হঠাৎই থমকে যায় ট্রলারের ইঞ্জিন। ট্রলার কর্মীদের হাজার চেষ্টাতেও তা আর চালু করা যায়নি। একদিকে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, অন্যদিকে চারপাশ ঘিরে ধরা নিকষ অন্ধকার— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পর্যটকরা। ট্রলারের মধ্যেই শুরু হয় কান্নাকাটি ও চিৎকার।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ট্রলারের কর্মীরা তড়িঘড়ি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দিঘা কোস্টাল থানায় বার্তা পাঠান। খবর পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয় পুলিশ। কালক্ষেপ না করে উদ্ধারকারী দল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি দ্রুতগতির ভেসেল মাঝসমুদ্রের উদ্দেশে রওনা দেয়। দীর্ঘক্ষণের উৎকণ্ঠা কাটিয়ে যখন পুলিশ সেখানে পৌঁছয়, তখন পর্যটকরা আক্ষরিক অর্থেই প্রহর গুনছিলেন।
কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মাঝসমুদ্রেই ট্রলার থেকে পর্যটকদের একে একে উদ্ধার করে পুলিশের ভেসেলে তোলা হয়। রাতেই তাঁদের নিরাপদে দিঘা ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই আতঙ্কে অসুস্থ বোধ করলেও বর্তমানে সকলেই সুস্থ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া এক পর্যটকের কথায়, “আনন্দের সফর যে এমন ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। চারদিকে শুধু অন্ধকার আর জল, বাঁচার সব আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। পুলিশ ঠিক সময়ে না পৌঁছলে আজ হয়তো আমাদের সলিল সমাধি হতো।”
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পুলিশের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা— সকলেই।জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছিল। তবে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সকলকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।সম্প্রতি জেলা পুলিশ একটা হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছে, সেই নাম্বারে ফোন করে এতোগুলো মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হলো।

