Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সিবিআই মামলায়! ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র ফাঁদে ৬ লক্ষ খোয়ালেন তমলুকের বৃদ্ধা অধ্যাপিকা

তমলুক ,কাজল মাইতি, দেশ মানুষ: সশরীরে দিল্লি হাজিরা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, ‘ডিজিটাল’ মাধ্যমেই হবে জেরা। আর সেই জেরার নামে দু’দিন ধরে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হল লখনউ মিউজিক কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকাকে। শেষে সিবিআই মামলার ভয় দেখিয়ে …


তমলুক ,কাজল মাইতি, দেশ মানুষ: সশরীরে দিল্লি হাজিরা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, ‘ডিজিটাল’ মাধ্যমেই হবে জেরা। আর সেই জেরার নামে দু’দিন ধরে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হল লখনউ মিউজিক কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকাকে। শেষে সিবিআই মামলার ভয় দেখিয়ে ওই বৃদ্ধার থেকে হাতিয়ে নেওয়া হল নগদ ৬ লক্ষ টাকা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে শেষমেশ তমলুক থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই প্রৌঢ়া।

​পুলিশ সূত্রে খবর, লখনউ মিউজিক কলেজের প্রাক্তন প্রফেসর বছর ৭৬-এর জয়শ্রী রায় বর্তমানে তমলুকের একটি আবাসনে থাকেন। তাঁর মেয়ে দেবশ্রী রায় চক্রবর্তী মহিষাদল গার্লস কলেজের অধ্যাপিকা। জয়শ্রীদেবীর অভিযোগ, গত ২২ ডিসেম্বর তাঁর ফোনে দিল্লি থেকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, তাঁরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আধিকারিক বলছেন।

​অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে জানান যে ৮০ কোটি টাকার একটি বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম জড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, ভয় দেখাতে দিল্লি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেশ গোয়েলের নামও নেওয়া হয়। বলা হয়, এই হাই-প্রোফাইল মামলায় জয়শ্রীদেবীও অন্যতম অভিযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অবিলম্বে দিল্লি সিবিআই দফতরে হাজির হতে বলা হয়।


​বৃদ্ধা অধ্যাপিকা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, এরপরই শুরু হয় মানসিক চাপ সৃষ্টি। তদন্তের অছিলায় তাঁকে ফোনের সামনে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়। প্রায় দু’দিন তাঁকে এক প্রকার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ভার্চুয়াল গৃহবন্দি করে রাখা হয়। এই সময়ে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছিল তাঁকে।

​মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই বৃদ্ধার থেকে মামলা মেটানোর নাম করে ধাপে ধাপে টাকা চাওয়া শুরু হয়। অবশেষে ভয় পেয়ে প্রতারকদের দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আরটিজিএস এর মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এর পরেই বৃদ্ধা বুঝতে পারেন তিনি বড়সড় কোনও প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়েছেন।

​ইতিমধ্যেই তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জয়শ্রীদেবী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের সচেতনতা নিয়ে। সাইবার অপরাধ রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারংবার প্রচার চালানো সত্ত্বেও, শিক্ষিত সমাজের মানুষ কেন বারবার এই ধরনের ভুয়ো ফোনে পা দিচ্ছেন, তা নিয়ে উদ্বেগে জেলা প্রশাসন।

​সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইদানীং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মাধ্যমে প্রতারণার হার বেড়েছে। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা বা পুলিশ ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে বন্দি করে রাখতে পারে না— এই প্রাথমিক বিষয়টি সাধারণ মানুষকে আরও সতর্কতার সঙ্গে মাথায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।