Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

দুর্ঘটনায় মৃত্যু রুখতে মরিয়া পূর্ব মেদিনীপুর, ‘পথবন্ধু’দের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রাস্তায় কড়া পুলিশি নজরদারি।

কাজল মাইতি , দেশ মানুষ :জেলা জুড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার বিরাম নেই। কখনও কোলাঘাট, কখনও হলদিয়া বা দিঘা যাওয়ার জাতীয় সড়ক— বারবার রক্তে ভিজছে সড়ক। সেই দুর্ঘটনার হার কমাতে এবং অকালমৃত্যু রুখতে এ বার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পূর্ব মেদিনীপুর…

 কাজল মাইতি , দেশ মানুষ :

জেলা জুড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার বিরাম নেই। কখনও কোলাঘাট, কখনও হলদিয়া বা দিঘা যাওয়ার জাতীয় সড়ক— বারবার রক্তে ভিজছে সড়ক। সেই দুর্ঘটনার হার কমাতে এবং অকালমৃত্যু রুখতে এ বার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে ‘পথ বন্ধু’দের প্রশিক্ষণ এবং বাসের যান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে কড়া দাওয়াই দিচ্ছে জেলা কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় প্রায় ৭০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে আহতদের প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে নিমতৌড়ির জেলাশাসকের কার্যালয়ে শতাধিক ‘পথ বন্ধু’-কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হল।

জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ ওয়ান নারায়ণ মিদ্যা বলেন, “এই পথ বন্ধুরা চিকিৎসক নন ঠিকই, কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক শুশ্রূষাটুকু করলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। সেই কারণেই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন।” বর্তমানে কোলাঘাট থেকে দিঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়কে মোট ১১৪ জন পথ বন্ধু সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের নাম ও ফোন নম্বর প্রতিটি থানা, ব্ল্যাক স্পট এবং সড়কের ধারের দোকানগুলিতে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

 বাসেও নজরদারি

পুলিশ প্রশাসনের তরফে সারা বছর ‘সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি চললেও চালকদের অসচেতনতা ভাবাচ্ছে আধিকারিকদের। তাই প্রচারের পাশাপাশি এবার কড়া পদক্ষেপ করছে পরিবহণ দপ্তরও।

জেলায় চলাচলকারী প্রায় এক হাজার সরকারি ও বেসরকারি বাসের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ শুরু হয়েছে।

গত দু’দিনে নিয়মভঙ্গকারী বাসগুলির থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সোনাপেত্যা টোল প্লাজায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চেকিং তদারকি করেন আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সঞ্জয় হালদার।

বর্তমানে মাধ্যমিক চলছে, সামনেই উচ্চ মাধ্যমিক। পরীক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের পাখির চোখ। সঞ্জয়বাবুর কথায়, “যাত্রীবাহী বাসগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক থাকলে পরিষেবার মানোন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।” প্রশাসনের এই কড়াকড়িকে স্বাগত জানিয়েছেন চালকদের একাংশও। বাসচালক সৌরভ হাতি বলেন, “অনেক সময় মালিকরা দীর্ঘক্ষণ গাড়ির মেরামতি করান না। মাঝেমধ্যে এই ধরনের চেকিং হলে আমাদেরও সুবিধা হয়।”