আজ হোলিকা দহনের রাত 🌹কলমে,, মিঠু ভট্টাচাৰ্য
নিস্তব্ধ অন্ধকার।কুরুক্ষেত্রে ডাকছে শৃগাল, শত শত বিধবা রমণীর আর্ত চিৎকার, লক্ষ লক্ষ মায়ের ক্রন্দন, হাহাকার, খুঁজে বেড়ায় সন্তানের মৃতদেহ। 😭আজ ও এক হোলিকা দহনের রাত। কুরুক্ষেত্রের যুদ্…
আজ হোলিকা দহনের রাত 🌹
কলমে,, মিঠু ভট্টাচাৰ্য
নিস্তব্ধ অন্ধকার।কুরুক্ষেত্রে ডাকছে শৃগাল, শত শত বিধবা রমণীর আর্ত চিৎকার, লক্ষ লক্ষ মায়ের ক্রন্দন, হাহাকার, খুঁজে বেড়ায় সন্তানের মৃতদেহ। 😭
আজ ও এক হোলিকা দহনের রাত। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষ রাত। সারাজীবন তীব্র বিদ্বেষ, ঘৃণা, অপমান, হিংসা, ষড়যন্ত্রের পর, শত শত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজা হয়েছেন যুধিষ্ঠির। আমি কুন্তী, আজ রাজমাতা।
হা,,, কিসের রাজ্য, কিসের রাজা কিসের রাজমাতা!!!!
মনে পড়ে পাণ্ডুর চিতার আগুন নিভতেই রাজমহিষী গান্ধারী কেড়ে নিয়েছিলেন আমার রাজ কক্ষ, স্থান দিয়েছিলেন রন্ধন শালার এক কোণে, নিযুক্ত করেছিলেন পরিচারিকাদের তত্ত্বাবধায়ক রূপে, কিন্তু আমিও তো ছিলাম রাজ রানী।
বছরের পর বছর আমার পুত্রেরা নির্বাসিত,লুন্ঠিত, বিতাড়িত, ছলনা ষড়যন্ত্রের শিকার। পুত্রান্ধ মেরুদন্ডহীন রাজা ধৃতরাষ্ট্র, রাজ মহিষী গান্ধারী তথাপি পুরুষোত্তম ভীষ্ম ধর্ম রাজ পিতৃব্য বিদূর সমর্থন করলেন দিনের পর দিন। নতুবা গান্ধার রাজ শকুনির এতো স্পর্ধা হয় সাড়া জীবন বিষ ঢালা দুর্যোধনের কানে। 🙄
আজ হোলিকা দহন এর রাত, শরসজ্যা থেকে উঠুন পিতামহ, সকল গুরুজন দগ্ধ করুন এই পাপ। নয়তো ভারত বর্ষে আবার হবে এক মহাভারত।
আমি কুন্তী শত শত লাশের মাঝে খুঁজে বেড়ায় দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র কে, বহরু বাহন, ঘটৎ কচ কে,, অভিমন্যু কে,,, অভিমন্যুউউউউউ,,,,, ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তোমাদের নাম।
পঞ্চপুত্র জননী কুন্তী আমি, পঞ্চ? নাকি ষষ্ঠ? ছি ছি কী পাপী আমি, ধিক মোর মাতৃত্ব,, এক পুত্রের হাতে করিয়েছি আরেক পুত্রের মৃত্যু। কর্ণ কোঠায় আমার কর্ণ? কৃষ্ণ বলো, একমাত্র কর্ণের মৃত্যু তেই কেঁদেছিলে তুমি, ফিরিয়ে দাও আমার জেষ্ঠ পুত্র কর্ণ কে। 😭
আজ হোলিকা দহন এর রাতে দগ্ধ হয় আমি এই ভয়ঙ্কর পাপ হতে।
গান্ধারী,, সারাজীবন রাজ মহি ষী হয়ে রইলে, রাজমাতা হতে পারলেন না। আজ হোলিকা দহন এর রাতে দগ্ধ করুন, সেই প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য রাজপাট গরিমা, অহংকার, অন্ধপুত্র স্নেহ। হারিয়েছেন আপনি ও শত শত পুত্র, কী পেলেন? হলেন কী জয়ী?
পরমার্থ কৃষ্ণ, রাধার সঙ্গে রচিয়েছো রাস লীলা, বৃন্দাবনের পথে পথে খেলেছো হোলি, মন্দিরে মন্দিরে পূজিতা তুমি ও রাধারানী, দ্বারকায় রুক্মিণী সত্যভামা কী করে নি তোমার সেবা,, খেলেনি কী হোলি? তাদের কেন হলোনা স্থান?
তোমার জন্মের রাতে যশোদা নন্দিনী যোগমায়া, সে কোথায় হারিয়ে গেলো তোমাকে শ্রেষ্ঠ অবতার করে? সে রাত শুধু কৃষ্ণষ্টমীর রাত নয়, যোগমায়া র জন্মেরো রাত,,, সেই ভগ্নি কে ফিরিয়ে আনতে পারলেনা তুমি সমাজে, উদ্ধার তো করেছিলে দেবকী ও ষোলো হাজার রমনী কে, ব্রজবাসী কে। কোনো অনুতাপ হলোনা যোগমায়ার জন্য? নাকি অবতার হলেও মনুষ্য রূপে জন্মে করলে ভুল। আজ হোলিকা দহন এর রাতে এই সকল পাপ মোচন করে তুমিও দগ্ধ হও কৃষ্ণ।
সুচাগ্র মেদিনীর লোভ এ কী ভয়ঙ্কর কুরুক্ষেত্র,, যুধিষ্ঠির না এমন রাজ্যের রাজা হয়োনা,, ভ্রাতা সন্তান প্রজার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে, নতুন প্রজন্ম পরীক্ষিত কে শেখাও প্রেমের রাজপাট, চলো আমরা সবাই আজ হোলিকা দহন এর রাতে সবাই দহন করি সকল পাপ, নতুন সূর্য দেখাই নতুন প্রজন্মের ভারতবর্ষ কে।