অরুণ কুমার সাউ,তমলুক: বাংলা নববর্ষের পুণ্যলগ্নে ঐতিহ্য আর আড়ম্বরের মেলবন্ধনে মেতে উঠল তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রত্নালী গ্রাম। স্বর্গীয় শিখিধবজ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত অর্ধশতাব্দী প্রাচীন বৈশাখী রথের মেলা ঘিরে এদিন উৎসবে…
অরুণ কুমার সাউ,তমলুক: বাংলা নববর্ষের পুণ্যলগ্নে ঐতিহ্য আর আড়ম্বরের মেলবন্ধনে মেতে উঠল তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রত্নালী গ্রাম। স্বর্গীয় শিখিধবজ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত অর্ধশতাব্দী প্রাচীন বৈশাখী রথের মেলা ঘিরে এদিন উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। ১লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই রথযাত্রা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভিড় জমিয়েছিলেন বহু দূর-দূরান্তের মানুষ।বিকেল গড়াতেই বাদ্য-বাজনা আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মূল উৎসব।দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রথের রশিতে টান পড়ে। রথ টানা হয়ে গিয়ে রত্নালী দুর্গা মন্দিরের মাঠে গিয়ে পৌঁছায়। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল রত্নালী মিলন সংঘ দুর্গোৎসব কমিটি ও গ্রামের সাধারণ মানুষ। আগে রত্নালী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে মেলা বসলেও, গত কয়েক বছর ধরে দুর্গা মন্দির সংলগ্ন মাঠেই মেলাটি আয়োজিত হচ্ছে।
রত্নালী গ্রামের এই মেলা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পার্শ্ববর্তী ১০-১৫টি গ্রামের মানুষের কাছে একটি মিলন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে নজর কেড়েছে হরেক রকমের বিপণি। জিভে জল আনা হরেক রকমের মিষ্টি ও মুখরোচক খাবার ,মাদুর, ধামা, কুলো থেকে শুরু করে কাঠের আসবাবপত্র ,মনোহারী সামগ্রীর দোকানে ছিল কচিকাঁচাদের ভিড়।রথ কমিটির সদস্যরা জানান, এটি রত্নালী গ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা। বছরের প্রথম দিনেই সকলে এক জায়গায় মিলিত হয়ে ভাব বিনিময় করেন, যা এই অঞ্চলের সামাজিক সংহতিকে আরও দৃঢ় করে।অর্ধশতাব্দী পার করা এই রথযাত্রা আমাদের গ্রামের অহঙ্কার। মেলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মৈত্রীর এক অনন্য ছবি ফুটে ওঠে। উৎসব এখনই শেষ নয়। ভোটের জন্য পিছিয়ে আগামী ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হবে ফেরত রথ। সেদিনও মেলা প্রাঙ্গণে বড়সড় জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন ও মেলা কমিটি।
