Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই বিপর্যয়, ছেলের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু। আহত বাবা শোকাহত।

কাজল মাইতি, দেশ মানুষছেলের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। হোস্টেলে থাকা ছেলের মন শক্ত করতে আর আশীর্বাদ দিতে সোমবার সকালে স্কুলে পৌঁছেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সেই দেখাই যে শেষ দেখা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তমলুক হ্যামিল্টন হাই স্কুলের …

 

কাজল মাইতি, দেশ মানুষ

ছেলের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। হোস্টেলে থাকা ছেলের মন শক্ত করতে আর আশীর্বাদ দিতে সোমবার সকালে স্কুলে পৌঁছেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সেই দেখাই যে শেষ দেখা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তমলুক হ্যামিল্টন হাই স্কুলের ছাত্র সম্রাট সামন্ত। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন সম্রাটের মা পারমিতা সামন্ত (৩৮)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা সূর্য সামন্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়ার মহৎপুরের বাসিন্দা সূর্যবাবু ও পারমিতাদেবী তাঁদের ছেলে সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে এদিন তমলুকে গিয়েছিলেন। সম্রাট হ্যামিল্টন হাই স্কুলের হোস্টেলে থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ছেলের সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করে স্কুটিতে চেপে তাঁরা পাঁশকুড়ার দিকে ফিরছিলেন। চাঁপাডালির কাছে পিছন দিক থেকে আসা একটি ঘাটাল-পাঁশকুড়া রুটের বাস সজোরে ধাক্কা মারে তাঁদের স্কুটিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলমেট থাকা সত্ত্বেও অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে দম্পতি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। পারমিতাদেবীর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পাঁশকুড়া ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত বড়মা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পারমিতাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সূর্যবাবু বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘাতক বাসটিকে পুলিশ আটক করেছে।

এদিকে মঙ্গলবার মাধ্যমিকের দ্বিতীয় পরীক্ষা। সম্রাটকে তখনও তার মাতৃবিয়োগের খবর দেওয়া হয়নি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মা অসুস্থ— এই কথা বলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে ফিরে সাদা থান আর কান্নার রোল দেখে কিশোর সম্রাটকে কীভাবে সামলানো যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগে পরিজনেরা।

পাঁশকুড়া ও তমলুক— দুই এলাকাতেই এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের এক শিক্ষকের কথায়, "ছেলেটি মেধাবী। কিন্তু এই মানসিক আঘাত সহ্য করেও বাকি পরীক্ষাগুলো আদৌ দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।"