কাজল মাইতি ,দেশ মানুষ: জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া টাকা না মেলায় এবার চরম আন্দোলনের পথে নামলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ঠিকাদারেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তমলুক শহরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন ‘পূ…
কাজল মাইতি ,দেশ মানুষ: জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া টাকা না মেলায় এবার চরম আন্দোলনের পথে নামলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ঠিকাদারেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তমলুক শহরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কন্ট্রাকটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা। অফিসের মূল ফটক আটকে চলে বিক্ষোভ, যার জেরে দফতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই জল জীবন মিশন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ মিলিয়ে বকেয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি। একই চিত্র রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে ৩১টি ডিভিশনে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া না মিটলে আগামী দু’দিন (১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি) জেলা জুড়ে জল জীবন মিশনের সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ শেষ করার পরেও মিলছে না প্রাপ্য টাকা। তাঁদের মূল দাবিগুলি হলো
জল জীবন মিশনের কাজের বকেয়া বিল অবিলম্বে মেটাতে হবে।
বিগত পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচনে সরবরাহ করা বিভিন্ন পরিষেবার পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের অধীনে সম্পন্ন হওয়া অন্যান্য ছোট-বড় কাজের বকেয়া দ্রুত রিলিজ করতে হবে।
আন্দোলনরত এক ঠিকাদারের কথায়, “বাড়ির গয়না বন্ধক রেখে, ঋণ নিয়ে আমরা সরকারি কাজ শেষ করেছি। অথচ বছরের পর বছর টাকা মিলছে না। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী— সকলকেই জানানো হয়েছে, কিন্তু সুরাহা হয়নি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা কর্মবিরতির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছি।”
অচল দফতর, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এ দিন তমলুকে দফতরের গেটে বিক্ষোভের জেরে কোনও কর্মী বা আধিকারিককে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ২৫০ জন ঠিকাদার এই কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছেন। সংগঠনের জেলা নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, এই দু’দিনের প্রতীকি আন্দোলনে যদি সরকার সদর্থক ভূমিকা না নেয়, তবে আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এই বকেয়া নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জেলা জুড়ে জল প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পানীয় জল পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।