ভোট মানেই রাজনীতির ময়দানে তপ্ত রোদে লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো ফ্লেক্স, ব্যানার আর বিশালাকার কাটআউট। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ফ্লেক্স কারখানার কর্মীরা। জেলা সদর ত…
ভোট মানেই রাজনীতির ময়দানে তপ্ত রোদে লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো ফ্লেক্স, ব্যানার আর বিশালাকার কাটআউট। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ফ্লেক্স কারখানার কর্মীরা। জেলা সদর তমলুকের ধারিন্দা, মানিকতলা কিংবা নিমতৌড়ি— সর্বত্রই এখন ছবিটা এক। কোথাও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসছেন নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার কোথাও তাঁর পাশেই জায়গা করে নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতির আঙিনায় আদর্শের লড়াই থাকলেও, এই কারখানাগুলোতে কিন্তু সব দলের নেতারাই এখন সহাবস্থানে।
জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফ্লেক্স প্রিন্টিংয়ের ব্যস্ততা। বিশেষ করে নিমতৌড়ি এলাকার দোকানগুলিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম— এই তিন জেলা মিলিয়ে প্রায় ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারের রশদ তৈরি হচ্ছে এখান থেকেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অর্ডারের বহর অনেকটাই বেশি। যদিও অনেক কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা বাকি, তবুও দেওয়াল লিখন বা ছোট পোস্টারের চেয়ে এবার বিশালাকার কাটআউটের দিকেই ঝোঁক বেশি রাজনৈতিক দলগুলোর। ৫ ফুট থেকে শুরু করে ২০ ফুট দীর্ঘ কাটআউট তৈরির বরাত আসছে দেদার।
তমলুকের ধারিন্দা, মানিকতলা ও নিমতৌড়ি।
সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিরামহীন কাজ।
৫ থেকে ২০ ফুটের কাটআউট ও সানপ্যাক বোর্ড।
রাজনৈতিক দলের লোগো দেওয়া গেঞ্জি ও টুপি।
ফ্লেক্স কারখানার মালিক নীলু প্রসাদ পাড়ইয়ের কথায়, "এবার যে পরিমাণ অর্ডার হাতে এসেছে, তাতে লাভের মুখ দেখার আশা করছি। প্রার্থী তালিকা পুরোপুরি ঘোষণা হয়ে গেলে চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়বে।" শুধু মালিক পক্ষই নয়, মুখে হাসি ফুটেছে কারখানার কর্মীদেরও। সারা বছর কাজ কম থাকলেও ভোটের এই কয়েকমাস তাঁদের উপরি আয়ের মরসুম। রমেশ চন্দ্র ভৌমিক নামে এক কর্মী জানালেন, "ভোট মানেই আমাদের কাছে দিনরাত এক করে খাটা। সকাল থেকে রাত একটা পর্যন্ত মেশিন চলছে। কষ্ট হলেও পকেটে বাড়তি টাকা আসার আনন্দটা আলাদা।"
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কারখানাগুলিতে প্রায় ৫০ জন কর্মী কাজ করছেন যাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন। কিন্তু কাজের সময়ে তাঁরা এক সুতোয় গাঁথা। কেউ বিজেপির পদ্ম ছাপ ফিনিশিং করছেন, তো কেউ তৃণমূলের জোড়াফুলের ফ্লেক্স কাটছেন। বাম বা এসইউসিআই -এর লাল পতাকার ব্যানারও বাদ যাচ্ছে না। দোকান মালিকদের দাবি, এবার তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শিবিরের অর্ডারের পাল্লা প্রায় সমান সমান।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই শুরু হবে চূড়ান্ত দফার ‘প্রিন্টিং’ ও ‘ফিনিশিং’। সব মিলিয়ে ভোটের বাজারে এখন পোয়াবারো ফ্লেক্স শিল্পের। রাজনীতির লড়াই যে আদতে বহু মানুষের অন্নসংস্থানের পথ প্রশস্ত করে, তমলুকের ব্যস্ত কারখানাগুলোই তার প্রমাণ।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ