উত্তুরে হাওয়া বিদায় নিলেও মাঠজুড়ে এখন কেবলই লালের হাতছানি। তবে সেই লাল রাজনীতির নয়, বরং ফলন ছাপিয়ে যাওয়া টাটকা টমেটোর। এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছিল। চাষিদের চোখে যখন লোকসানের জল, ঠিক তখনই ত্…
উত্তুরে হাওয়া বিদায় নিলেও মাঠজুড়ে এখন কেবলই লালের হাতছানি। তবে সেই লাল রাজনীতির নয়, বরং ফলন ছাপিয়ে যাওয়া টাটকা টমেটোর। এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছিল। চাষিদের চোখে যখন লোকসানের জল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে দাঁড়াল ‘লাল বিপ্লব’। কাঁচা টমেটো জলের দরে বিক্রি না করে, তা দিয়ে কেচাপ তৈরি করে স্বনির্ভরতার নতুন পথ দেখাচ্ছে তমলুকের সিএডিসি প্রকল্প।
মরসুমের শুরুতে টমেটোর ন্যায্য দাম না পেয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছিল কৃষকদের। সংরক্ষণের অভাবে বিঘার পর বিঘা ফসল মাঠেই পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই সংকটকেই সম্ভাবনায় বদলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সিএডিসি। বিজ্ঞানসম্মত ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে টমেটো প্রক্রিয়াকরণ শুরু হতেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। নষ্ট হতে বসা টমেটো এখন বোতলবন্দি হয়ে অর্থকরী সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
স্বনির্ভরতায় নারীশক্তি
এই প্রকল্পের মেরুদণ্ড হলেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর গ্রামীণ মহিলারা। টমেটো বাছাই থেকে শুরু করে ধোয়া, থকথকে পাল্প তৈরি এবং শেষমেশ বোতলজাতকরণ— সবটাই সামলাচ্ছেন তাঁরা। এর ফলে একদিকে যেমন ফসলের অপচয় রোধ হচ্ছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।
প্রকল্পের বিশেষত্ব একনজরে:
সম্পূর্ণ খাঁটি: কোনও কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে এই সস।
সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর: রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর চাহিদা তুঙ্গে।
বাজারজাতকরণ: স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সরকারি স্টল ও বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও পৌঁছে যাচ্ছে এই ‘হোমমেড’ কেচাপ।
"বর্তমানে বাজারে টমেটোর দাম অনেকটাই কম। তাই কাঁচা টমেটো বিক্রি না করে তা দিয়ে কেচাপ তৈরি করা অনেক বেশি লাভজনক। এতে গ্রামীণ মহিলাদের আয়ের পথ প্রশস্ত হচ্ছে এবং মানুষ পাচ্ছেন ১০০ শতাংশ খাঁটি টমেটো সস," জানালেন সিএডিসি-র প্রজেক্ট অফিসার ডক্টর উত্তম লাহা।
বাজারে যেখানে সাধারণ সসে রাসায়নিকের ছড়াছড়ি, সেখানে তমলুকের এই বিশুদ্ধ কেচাপ রীতিমতো নজর কাড়ছে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের। ফসলের সঠিক মূল্য পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখেও। মহিলাদের হাতে অর্থ আসায় গ্রাম স্তরে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ বাজারকে শক্তিশালী করছে।
তমলুকের এই ‘লাল বিপ্লব’ কেবল স্বাদের বদল ঘটাচ্ছে না, বরং পচনশীল সবজিকে কী ভাবে আয়ের হাতিয়ার করা যায়, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করছে। ঘরোয়া পদ্ধতিতেই যে বিশ্বমানের ব্যবসায়িক দিশা পাওয়া সম্ভব, তা হাতেকলমে প্রমাণ করে দিচ্ছে রূপনারায়ণের তীরের এই জনপদ।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ