বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায় তমলুকবছর ঘুরতে গেল কোলাঘাট-পাঁশকুড়ার দেহাটী খাল সংস্কারের কাজের পোর্টাল চালু না হওয়ায় ওয়ার্ক অর্ডারের ন'মাস পরও শুরু হয়নি কাজ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ও পাঁশ…
বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায় তমলুক
বছর ঘুরতে গেল কোলাঘাট-পাঁশকুড়ার দেহাটী খাল সংস্কারের কাজের পোর্টাল চালু না হওয়ায় ওয়ার্ক অর্ডারের ন'মাস পরও শুরু হয়নি কাজ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ও পাঁশকুড়ার গুরুত্বপূর্ণ নিকাশী দেহাটি খাল সংস্কার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু হয়েছিল গত ২০২৫ সালের মে মাসে শেষের দিকে। বছর প্রায় ঘুরতে গেল বর্ষা প্রায় আসন্ন খাল সংস্কারের কাজ শুরু করা যায় নি। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সেচ ও প্রশাসন দপ্তর ওই কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ 'নো কষ্ট' পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৭৩ বর্গফুট মাটি তোলার নির্দেশ দেয় এক এজেন্সিকে। সেইমত গত ৯ ই জানুয়ারী অতিরিক্ত জেলা শাসক(ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) দপ্তরের পক্ষ থেকে পশ্চিম বঙ্গ মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড(ডব্লিউ বি এম ডি টি সি এল)কর্তৃপক্ষের কাছে পোর্টাল চালুর আবেদন জানিয়ে চিঠি দেন। আশ্চর্যের বিষয়, এখনো ওই খাল সংস্কারের পোর্টাল চালু না হওয়ায় খাল পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরুই হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরব এলাকার কৃষকদের অরাজনৈতিক সংগঠন কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। ইতিমধ্যে পরিষদের পক্ষ থেকে ডব্লিউ বি এম ডি টি সি এল'র চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অতিরিক্ত জেলা শাসক(ভূমি ও ভূমি রাজস্ব),তমলুকের মহকুমা শাসক,সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে কোলাঘাটের বি ডি ও এবং সেচ দপ্তরের পাঁশকুড়ার এস ডি ও কে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয় সহ সোয়াদিঘী খাল সংস্কারের কাজের গতিবৃদ্ধির দাবিতে জেলাশাসক দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হল। জেলা শাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (জেলা পরিষদ)মানস কুমার মন্ডল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পরিষদের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,সহ-সভাপতি নিবাস মানিক প্রমূখ।
পরিষদের সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন,গত ১ লা ডিসেম্বর ব্লকের ঐ গুরুত্বপূর্ণ দেহাটী খাল সহ কয়েকটি খাল সংস্কারের বিষয়ে বি ডি ও সহ সেচ দপ্তরের এস ডি ও'র উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিস্ট সবাইকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে দেহাটি খালের বরদাবাড় সংলগ্ন অংশ থেকে পাঁশকুড়া বাজার পর্যন্ত সংস্কার করার কাজ ওই সময় থেকেই শুরু করার ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভার পর ৯ মাস অতিক্রান্ত হলেও পাঁশকুড়া ব্লকের দুই জায়গায় সামান্য এবং কোলাঘাট ব্লকের দুই জায়গায় সামান্য কিছু অংশে অল্প মাটি তোলা হয়েছে। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,এখনো মাটি বের করার পোর্টালই চালু হয়নি। এবং খাল সংস্কারের পূর্বে খালের ভেতরে থাকা বনসৃজনের গাছ কেটে নেওয়া এবং অবৈধ কাঠামোগুলি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সেচ বা প্রশাসন দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো মাইক প্রচার সহ কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে গত বছর জানুয়ারি মাস থেকে সোয়াদিঘী খাল সংস্কার শুরু হলেও এখনো খালের অর্ধেক অংশ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হয়নি। কোলাঘাট ব্লকের বৃন্দাবনচক, সিদ্ধা-১ ও ২,পুলসিটা,সাগরবাড়,খন্যাডিহি,সাগরবাড়,ভোগপুর, দেড়িয়াচক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আনুমানিক যে ৫০ টি গ্রাম গত বর্ষায় জলমগ্ন হয়েছিল,এই বছরও সেই গ্রামগুলি ফের জলমগ্ন হবে আশা করা হচ্ছে।