ভোট নিতে যাওয়ার আগে নিজেদের ভোট দিতে এসেই চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হলো ভোটকর্মীদের। অভিযোগ, অব্যবস্থা আর চূড়ান্ত ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অস্থিরতার চেহারা নেয়…
ভোট নিতে যাওয়ার আগে নিজেদের ভোট দিতে এসেই চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হলো ভোটকর্মীদের। অভিযোগ, অব্যবস্থা আর চূড়ান্ত ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অস্থিরতার চেহারা নেয় তমলুকের কুলবেড়িয়া ভীমদেব আদর্শ বিদ্যালয়। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটকর্মীরা।
ঠিক কী ঘটেছে?
ভোটের ডিউটিতে যাওয়ার আগে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই মতো এদিন কুলবেড়িয়া ভীমদেব আদর্শ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন প্রায় ৭০০ জন ভোটকর্মী। কিন্তু অভিযোগ, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্রে মাত্র একটিই কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছিল।
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি:
এক একজন ভোটারের ভোট দিতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগছে।
চৈত্রের এই প্রখর দহন আর তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ বোধ করছেন অনেকে।
সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ালেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও অনেকের ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপস্থিত বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভোটকর্মীরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানাতে গেলে বিডিও কোনও সদুত্তর দেননি, বরং বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ভোটকর্মীদের। তাঁরা বিডিও-র গাড়ির সামনে এবং কেন্দ্রের গেটে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শুরু হয় স্লোগান দেওয়া।
"আমরা নিজেরা ভোট করাতে যাই, আর আমাদের ভোটের বেলাতেই এই চূড়ান্ত অব্যবস্থা? একটা কাউন্টারে ৭০০ জনের ভোট নেওয়া কি রসিকতা?" — ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন লাইনে দাঁড়ানো এক ভোটকর্মী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী
উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে ভোটকর্মীদের জানানো হয়েছে, এভাবে বিক্ষোভ না দেখিয়ে তাঁরা যেন তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। তবে একটি মাত্র কাউন্টার দিয়ে কীভাবে এত দ্রুত ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই গিয়েছে।
প্রশাসনের এই উদাসীনতা নিয়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে এই ঘটনার জেরে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
