বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শুভ সূচনা হল আরও একটি নতুন বছরের হাত ধরে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১লা বৈশাখ। আর বছরের প্রথম দিন মানেই আপামর বাঙালির কাছে উৎসবের মেজাজ। সেই চেনা ছবিই ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী তমলুকে। ব…
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শুভ সূচনা হল আরও একটি নতুন বছরের হাত ধরে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১লা বৈশাখ। আর বছরের প্রথম দিন মানেই আপামর বাঙালির কাছে উৎসবের মেজাজ। সেই চেনা ছবিই ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী তমলুকে। বুধবার সকাল থেকেই কড়া রোদ আর তীব্র দাবদাহকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবী বর্গভীমার চরণে আশীর্বাদ নিতে ভিড় জমালেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।
ভোরের আলো ফুটতেই দীর্ঘ লাইন
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এখন তাপপ্রবাহের দাপট। কিন্তু গরমের ভ্রুকুটি বাঙালির আবেগ আর বিশ্বাসে চির ধরাতে পারেনি। নববর্ষের সকালে তমলুকের দেবী বর্গভীমার মন্দিরে দেখা গেল জনসমুদ্র। ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি কামনায় কেউ এসেছেন নতুন লাল খাতা বা 'হালখাতা' পুজো করাতে, কেউ আবার এসেছেন বছরের প্রথম দিনে সপরিবারে দেবীর আশীর্বাদ নিতে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশেষ পুলিশ বাহিনী।
একান্ন পীঠের অন্যতম মাহাত্ম্য
পুরাণ মতে, ৫১ সতী পীঠের অন্যতম এই বিভাস পীঠ, যেখানে দেবী সতীকে উগ্রতারা বা ভীমা কালী রূপে আরাধনা করা হয়। কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে আজও অটুট রয়েছে সাবেকি প্রথা। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, এখানে যে কোনও শক্তি পুজো শুরুর আগে দেবীর অনুমতি নেওয়ার রীতি আজও নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়। ওড়িশি স্থাপত্যের আদলে নির্মিত প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার এই সুপ্রাচীন মন্দির ও তার গায়ের সূক্ষ্ম টেরাকোটার কাজ আজও পর্যটক ও ভক্তদের সমানভাবে আকর্ষণ করে।
ব্যবসায়ী মহলে হালখাতার ধুম
বাঙালির পয়লা বৈশাখ আর হালখাতা সমার্থক। মন্দিরে আসা ভক্তদের একটি বড় অংশই ছিলেন ব্যবসায়ী। গর্ভগৃহে কালো পাথরের মূর্তির সামনে নতুন খাতা ছুঁইয়ে বছর শুরুর সংকল্প নিলেন তাঁরা। এক ব্যবসায়ীর কথায়,
"গরম যতই হোক, বছরের প্রথম দিন মায়ের পুজো না দিলে দিনটাই অসম্পূর্ণ। ব্যবসার উন্নতির জন্য বর্গভীমা মায়ের ওপর আমাদের অগাধ আস্থা।"
তীব্র গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল মন্দির চত্বরে। ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত শহরের মধ্যমণি এই মন্দিরে নববর্ষের ভিড় সামলানো প্রতি বছরই চ্যালেঞ্জের। তবে এ বছর গরমের তীব্রতা বেশি থাকলেও উৎসাহে বিন্দুমাত্র খামতি দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে, ভক্তি আর ঐতিহ্যের মিশেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিল পূর্ব মেদিনীপুরবাসী।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
