সালটা ছিল ১৯৯০। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরে এক পশলা মানবিকতার অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল ‘তমলুক ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ সেই সংগঠিত আন্দোলনের ৩৬ বছর পূর্ণ করে ৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করল…
সালটা ছিল ১৯৯০। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরে এক পশলা মানবিকতার অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল ‘তমলুক ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ সেই সংগঠিত আন্দোলনের ৩৬ বছর পূর্ণ করে ৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করল সংস্থাটি। প্রতি বছরের মতো এবারও গভীর শ্রদ্ধা আর অনাবিল আনন্দের আবহে পালিত হলো এই বিশেষ দিন।
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বছরের ৩৬৫ দিনই মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়ানোর যে ব্রত সংস্থাটি নিয়েছে, এদিনের উদযাপন যেন তাকে আরও এক ধাপ দৃঢ় করল। এ বছর জন্মদিনের এই মহতি আয়োজনে শামিল হয়েছিল ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’ এবং ‘তমলুক বাইকার্স’ নামক দুই সংগঠনও।
উৎসবের মেজাজে রক্তদান
মঙ্গলবার বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাম্রলিপ্ত ধর্মশালা চত্বর ছিল কার্যত উৎসবমুখর। জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিতে এদিন বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। সংস্থার সদস্যদের কথায়, এক ফোঁটা রক্ত যেভাবে অসংখ্য মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো আর দীর্ঘায়ু নিয়ে আসে, তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং সম্পাদক শুকদেব চট্টোপাধ্যায়।পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায়, এছাড়াও সংস্থার অন্যান্য সদস্য ও শহরের বিশিষ্ট জনেরা হাজির ছিলেন। রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি এদিন সারা বছর রক্তদান আন্দোলনে যুক্ত থাকা বিভিন্ন সংস্থাকে তাঁদের বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।
তবে উদযাপনের মধ্যেও উঠে এল এক কঠিন বাস্তব। আয়োজকদের দাবি, বর্তমানে রক্তের জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেকটাই বেশি। সারা বছর জেলা জুড়ে যে পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হয়, তা মেটাতে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। দীপঙ্করবাবু জানান, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এই অঙ্গীকার রক্ষা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ