ভোটযুদ্ধের দামামা বাজতেই জেলায় জেলায় বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। বুধবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তমলুকের জেলাশাসকের দফতর চত্বর। তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের গালি গালাজ এবং স্লোগ…
ভোটযুদ্ধের দামামা বাজতেই জেলায় জেলায় বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। বুধবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তমলুকের জেলাশাসকের দফতর চত্বর। তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের গালি গালাজ এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
ঘটনার সূত্রপাত
এদিন তমলুকে জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দিতে এসেছিলেন পাঁশকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি। প্রায় একই সময়ে সসৈন্যে সেখানে হাজির হন ভগবানপুরের তৃণমূল প্রার্থী মানবপড়ুয়ারকর্মী-সমর্থকর ।দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে দফতর চত্বরে আগে থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন উভয় পক্ষের শয়ে শয়ে সমর্থক। অভিযোগ, দুই পক্ষ মুখোমুখি হতেই শুরু হয় চরম বাক্যবিনিময়। একে অপরকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন সমর্থকরা।
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি
প্রাথমিক বচসা অল্প সময়ের মধ্যেই হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। উত্তেজিত কর্মীরা একে অপরের দিকে তেড়ে যান। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও উন্মত্ত জনতাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গোটা এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে দ্রুত ময়দানে নামে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠি উঁচিয়ে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন জওয়ানরা।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তাঁর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দল এলাকা ঘিরে ফেলে। দীর্ঘক্ষণ টানটান উত্তেজনার পর পুলিশি তৎপরতায় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্ররোচনামূলক স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শান্তি বজায় রাখতে জেলাশাসকের দফতরের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ