শুক্রবার সাতসকালে দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে ফিল্মি কায়দায় বাস আটকে তল্লাশি চালাল পুলিশ। আর সেই তল্লাশিতেই মিলল বিপুল পরিমাণ মাদক। শুক্রবার সকালে এসবিএসটিসি-র একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের…
শুক্রবার সাতসকালে দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে ফিল্মি কায়দায় বাস আটকে তল্লাশি চালাল পুলিশ। আর সেই তল্লাশিতেই মিলল বিপুল পরিমাণ মাদক। শুক্রবার সকালে এসবিএসটিসি-র একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের এসওজি সেল। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ দিঘা থেকে বারাসাতগামী একটি সরকারি বাস কলকাতার অভিমুখে যাচ্ছিল। পুলিশ আগে থেকেই গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল যে, ওই বাসে করে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে ওত পেতে ছিলেন এসওজি সেলের আধিকারিকরা। বাসটি নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ সেটিকে আটকায়।
যাত্রীদের উপস্থিতিতেই বাসের ভেতরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। তল্লাশি চলাকালীন দু’টি সন্দেহভাজন ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশকর্মীদের। দেখা যায়, ভেতরে ঠাসা রয়েছে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা। এর পরেই ওই দুই ব্যাগের মালিককে চিহ্নিত করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় প্রসূন সাহা এবং বন্দনা তারক কর্মকার নামে দুই অভিযুক্তকে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দিঘা বা সংলগ্ন এলাকা থেকে এই মাদক নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দিকে যাওয়া হচ্ছিল। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনও মাথা যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তমলুক থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবার তমলুক আদালতে পেশ করা হবে।
অভিযান চলাকালীন বাসের যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক এবং কৌতূহল তৈরি হলেও, পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। তল্লাশি শেষে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বাসটিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, "গোপন খবরের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। মাদক পাচার রুখতে জাতীয় সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।"
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ