Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ভোটের বাদ্যি থামলেও সংকট কাটেনি, রক্তের অভাব তমলুক ব্লাড ব্যাঙ্কে। রক্ত নিতে হলে আনতে হবে ডোনার।

ভোটের বাদ্যি থামলেও সংকট কাটেনি, রক্তের অভাব তমলুক ব্লাড ব্যাঙ্কে। রক্ত নিতে হলে আনতে হবে ডোনার।ভোট মিটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। কিন্তু ভোটের আবহে জেলাজুড়ে থমকে থাকা রক্তদান শিবিরগুলির মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘাটতি মেটাতে ন…

 


ভোটের বাদ্যি থামলেও সংকট কাটেনি, রক্তের অভাব তমলুক ব্লাড ব্যাঙ্কে। রক্ত নিতে হলে আনতে হবে ডোনার।

ভোট মিটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। কিন্তু ভোটের আবহে জেলাজুড়ে থমকে থাকা রক্তদান শিবিরগুলির মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘাটতি মেটাতে নাভিশ্বাস দশা তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, ডোনার কার্ড থাকা সত্ত্বেও রক্ত মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। পরিবর্তে ‘এক্সচেঞ্জ’ বা রক্তদাতার দাবি করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই ব্লাড সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ২৫ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী এবং হাসপাতালের ইনডোরে চিকিৎসাধীন আরও ২৫ জন রোগীর জন্য নিয়মিত রক্তের জোগান বজায় রাখতে হয়। এছাড়া জেলা সদরের ৭০টিরও বেশি নার্সিংহোমের চাহিদাও মেটাতে হয় এখান থেকেই। বর্তমান সংকটে থ্যালাসেমিয়া ও মেডিক্যাল কলেজের রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, কার্যত শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা রোগীদের আত্মীয়দের।


​কার্ড থাকলেও অমিল রক্ত

​রক্তের খোঁজে আসা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতায় ধরা পড়ছে চরম ভোগান্তির ছবি। এমনই এক ভুক্তভোগী চাঁদনী খাতুন জানান, তাঁর মা নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। রক্তের কার্ড থাকলেও হাসপাতাল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন রক্তদাতা না আনলে রক্ত মিলবে না। একই সংকটে পড়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আসা অঞ্জলি পণ্ডিতও। ভাইয়ের জন্য রক্তের প্রয়োজনে শেষমেশ সঙ্গে আসা এক আত্মীয়ের থেকে রক্ত নেওয়ার পরেই সুরাহা মেলে।

​কেন এই সংকট?

​নির্বাচনের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনগুলির রক্তদান শিবির কার্যত বন্ধ ছিল।

​জেলা সদর তমলুক ও সংলগ্ন এলাকার নার্সিংহোমগুলোর চাহিদার চাপে মজুত ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে এসেছে।

​নতুন করে শিবির না হওয়ায় দৈনিক চাহিদার তুলনায় সংগ্রহ একেবারেই নগণ্য।

​"ভোটের কারণে রক্তদান শিবিরগুলো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তাই এই সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ভোট পর্ব শেষ হয়েছে, খুব শীঘ্রই বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।" — স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক

​আপাতত জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, রাজনৈতিক উত্তাপ কমতেই ফের শিবিরগুলোতে উৎসাহ ফিরবে এবং রক্তসংকট দ্রুত কাটবে। তবে যতদিন না নতুন জোগান আসছে, ততদিন ভোগান্তিই ভবিতব্য সাধারণ মানুষের।


কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ