রাত পোহালেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ প্রথম দফা। উত্তর থেকে দক্ষিণ— বৃহস্পতিবার রাজ্যের মোট ১৫২টি আসনে ভাগ্যনির্ধারণ করবেন ভোটাররা। যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হাইপ্রোফাইল ১৬টি আসনও। ভোটগ্রহণের আগের দিন বুধবা…
রাত পোহালেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ প্রথম দফা। উত্তর থেকে দক্ষিণ— বৃহস্পতিবার রাজ্যের মোট ১৫২টি আসনে ভাগ্যনির্ধারণ করবেন ভোটাররা। যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হাইপ্রোফাইল ১৬টি আসনও। ভোটগ্রহণের আগের দিন বুধবার সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি ডিসিআরসি (ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার কাম রিসিভিং সেন্টার) ক্যাম্পে ছিল সাজ সাজ রব। তবে সেই প্রস্তুতির মাঝেই ধরা পড়ল অব্যবস্থার এক ভিন্ন ছবি। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লেন একাধিক মহিলা ভোটকর্মী।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের জন্য মোট ৫০৪০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের কড়া নজরদারি। এ বার জেলায় নারীশক্তির ওপর বাড়তি ভরসা রেখেছে কমিশন। মোট ১,২৫৩টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলা পরিচালিত। ফলে এ দিন তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা এবং বাজকুলের ডিসিআরসি ক্যাম্পগুলিতে মহিলা ভোটকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিন্তু তমলুক মহকুমার শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরা গভর্নমেন্ট মহিলা কলেজের ডিসিআরসি ক্যাম্পে ছবিটা ছিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। অভিযোগ, বৃষ্টির আশঙ্কায় ক্যাম্পের চারপাশ প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেওয়ায় ভেতরে দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোটকর্মী দীপা জানা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “ভেতরের গরম বাতাস বেরোনোর জায়গা নেই। মহিলারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি পর্যাপ্ত পানীয় জল বা শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই।” অন্য এক ভোটকর্মী তারকনাথ মাজীর অভিযোগ, “অসুস্থদের জন্য মেডিকেল ইউনিট থাকলেও তা অপ্রতুল। অ্যাম্বুলেন্স আসতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।”
বিকেলের দিকে নিমতৌড়ি ডিসিআরসি চত্বর পরিদর্শনে যান জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। ভোটকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি বলেন, “বৃষ্টির কথা ভেবেই ঘেরাটোপ দেওয়া হয়েছিল। তবে গরম বাড়ায় তা দ্রুত খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিমকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
এক নজরে পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটচিত্র:
মোট আসন: ১৬
মোট বুথ: ৫,০৪০
মহিলা পরিচালিত বুথ: ১,২৫৩
মোট ভোটার: ৪১ লক্ষ ৬০ হাজার ২৫৮ জন
ডিসিআরসি কেন্দ্র: ৫টি
বিকেলের চড়া রোদ মাথায় নিয়েই ইভিএম কাঁধে বুথ অভিমুখে রওনা দিয়েছেন ভোটকর্মীরা। প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি বুথেই সিসিটিভি এবং কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এখন দেখার, কালকের হেভিওয়েট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাসি চওড়া হয়।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
