ভোটগ্রহণের কাজে নিযুক্ত কর্মীদের অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার মুখে কার্যত নতিস্বীকার করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। গত দু’দিনের চরম অব্যবস্থা মেটাতে এবং ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীদের শান্ত করতে বিশেষ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন জেলাশাসক। জানানো হ…
ভোটগ্রহণের কাজে নিযুক্ত কর্মীদের অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার মুখে কার্যত নতিস্বীকার করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। গত দু’দিনের চরম অব্যবস্থা মেটাতে এবং ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীদের শান্ত করতে বিশেষ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন জেলাশাসক। জানানো হয়েছে, যাঁরা নির্ধারিত সময়ে ভোট দিতে পারেননি, তাঁরা আগামী ২০ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট ডিসিআরসি (DCRC) কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এবার মোট ভোটকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৬০০। নিয়ম মেনে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তাঁদের জন্য ব্যালটে ভোটদানের ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। কিন্তু অভিযোগ, অধিকাংশ বিধানসভা এলাকায় মাত্র একটি করে কেন্দ্র থাকায় উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে না পেরে মেজাজ হারান কর্মীরা। তমলুকের নিমতৌড়ি-সহ একাধিক কেন্দ্রে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেকে ভোট না দিয়েই ক্ষোভে বাড়ি ফিরে যান।
প্রশাসনের এই ‘দুর্বল’ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে জেলা নির্বাচন দফতর।
কোথায় কোথায় ভোট দেওয়া যাবে?
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, কোনও কর্মী যাতে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই অতিরিক্ত তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে:
তমলুক: নিমতৌড়ি শহীদ মাতঙ্গিনী মহিলা কলেজ।
হলদিয়া: মহকুমা শাসকের অফিস।
কাঁথি: প্রভাত কুমার কলেজ।
এগরা: ঝাটুলার হাই স্কুল।
বাজকুল: ভগবানপুর ১ নম্বর বিডিও অফিস।
প্রশাসনের আশ্বাস
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বুথ ও লাইনের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে যাতে কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়। জেলাশাসকের কথায়,
"যাঁরা বাকি আছেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে ওই নির্ধারিত দিনগুলিতে এসে ভোট দিতে পারবেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি ভোটদানের প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ডিউটিতে যাওয়ার আগে ভোটকর্মীদের এই হয়রানি নিয়ে সরব হয়েছিল বিভিন্ন কর্মী সংগঠনও। প্রশাসনের এই নতুন সিদ্ধান্তে সেই ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
