পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা। বুধবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (WBSRDA)-র গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ‘পাচার’ করার অভিযোগ তুলে একটি গা…
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা। বুধবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (WBSRDA)-র গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ‘পাচার’ করার অভিযোগ তুলে একটি গাড়ি আটক করেন জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত। তাঁর দাবি, কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্তারা এই ফাইলগুলি কাঁথিতে সরিয়ে ফেলছিলেন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ জেলা পরিষদের তৃতীয় তলে গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার অফিসের সামনে একটি সাদা স্করপিও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন বিরোধী দলনেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তড়িঘড়ি অফিসের ভেতর থেকে বড় বড় প্যাকেটে মোড়া দু’লট ফাইল ওই গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই সন্দেহ হয় বামদেববাবুর। তিনি তৎক্ষণাৎ জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের খবর দেন এবং সশরীরে গিয়ে গাড়িটির পথ আটকান।
গাড়ির ভেতর তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে গুচ্ছ গুচ্ছ সরকারি ফাইল। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কোনো বৈধ নির্দেশিকা বা প্রোটোকল ছাড়াই এই গোপন নথিপত্র জেলা সদর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতার
ঘটনার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বামদেব গুছাইত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন:
"এই ফাইলগুলোতে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। এতদিন রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, তাই তাদের ভয় ছিল না। কিন্তু এখন রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরনো পাপ ঢাকতে এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে এই ফাইলগুলো কাঁথিতে পাচারের চেষ্টা চলছিল।"
তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশেই এই ফাইল চুরির ছক কষা হয়েছিল। জেলা পরিষদের অন্দরেই যে এই পাচারচক্র সক্রিয়, আজকের ঘটনা তার প্রমাণ বলে তিনি মনে করেন।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের অন্দরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, রুটিন মাফিক কাজের জন্যই ফাইলগুলি স্থানান্তরিত করা হচ্ছিল, এর মধ্যে কোনো লুকোছাপা নেই। বিরোধীরা অহেতুক বিষয়টিকে রং চড়িয়ে প্রচার করছে।
ঘটনাস্থল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ (৩য় তল)
সময় বুধবার, দুপুর ১২টা
মূল অভিযুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মীরা
উদ্ধারকৃত নথি ২ লট সরকারি ফাইল (WBSRDA সংক্রান্ত)
অভিযোগের তির প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও আর্থিক দুর্নীতি
বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ চত্বরে উত্তেজনা বজায় ছিল। পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলি বর্তমানে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। এখন প্রশ্ন উঠছে, কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এই নথিপত্র সরানো হচ্ছিল? তদন্তের পরেই আসল সত্য প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
