নামডাক হয়েছে আগেই, তবে গত শনিবারের পর থেকে ভিড়টা যেন একটু বেশিই বাড়ছে কাঁথি শহরের ওই দর্জির দোকানে। হবে না-ই বা কেন? খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বহু বছরের ‘আস্থা’ যে লুকিয়ে রয়েছে এই দোকানের সুঁচ-সুতোতেই। স্কুলবেলা …
নামডাক হয়েছে আগেই, তবে গত শনিবারের পর থেকে ভিড়টা যেন একটু বেশিই বাড়ছে কাঁথি শহরের ওই দর্জির দোকানে। হবে না-ই বা কেন? খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বহু বছরের ‘আস্থা’ যে লুকিয়ে রয়েছে এই দোকানের সুঁচ-সুতোতেই। স্কুলবেলা থেকে শুরু করে ব্রিগেডের শপথগ্রহণ— মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গে উঠেছে যাঁর হাতের সেলাই করা পোশাক, তিনি কাঁথির প্রবীণ দর্জি রবীন্দ্র চৌধুরী। শহরবাসীর কাছে যিনি একান্ত আপন ‘রবিদা’।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর থেকেই উৎসবে মেতেছে গোটা পূর্ব মেদিনীপুর। কিন্তু রবিদার আনন্দটা একটু অন্য জায়গায়। পেশায় টেলারিং দোকানের মালিক রবীন্দ্রবাবুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক কয়েক দশকের। শুভেন্দুর স্কুলজীবন থেকেই তাঁর পোশাক তৈরি করছেন রবিদা। শনিবার ব্রিগেডে শপথ নেওয়ার দিন যে ফতুয়াটি মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গে ছিল, সেটিও পরম যত্নে তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রবাবু।
স্মৃতি হাতড়ে আবেগপ্রবণ রবীন্দ্র চৌধুরী বলেন,
"ছোট থেকেই ওকে দেখছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে ওর কুর্তা, পাঞ্জাবি, পায়জামা সবই আমার হাতের তৈরি। ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমারই তৈরি পোশাকে শপথ নিল— একজন কারিগরের কাছে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে!"
শুভেন্দু অধিকারীকে বরাবরই দেখা যায় ধবধবে সাদা খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি ও পায়জামায়। কখনও ফুলহাতা, কখনও বা হাফহাতা। রবিদা জানালেন, মূলত কলকাতা থেকেই আসে সেই খাদি কাপড়। তারপর নিজের খাতায় রাখা নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী নিপুণ হাতে তৈরি হয় মুখ্যমন্ত্রীর পোশাক। রবিদার কথায়, "ওর পোশাকে কোনও জাঁকজমক বা চাকচিক্যের প্রতি টান নেই। তবে পোশাক হতে হবে একদম নিখুঁত। সামান্য দাগ লাগলেও ও আর সেই পোশাক পরে না। পরিচ্ছন্নতাই ওর প্রধান পছন্দ।"
রবীন্দ্রবাবুর দোকানে এখনও সযত্নে রাখা রয়েছে শপথের সেই ফতুয়া তৈরির বাড়তি এক টুকরো কাপড়। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তা আগলে রেখেছেন তিনি।
ভিড় বাড়ছে দোকানে
মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের দর্জি— এই তকমা সেঁটে যাওয়ার পর থেকেই রবিদার দোকানে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সকলেরই আবদার, রবিদাকে দিয়েই তৈরি করাতে হবে নিজেদের পোশাক। তবে ছোট দোকানে সবার কাজ একসঙ্গে সামলানো যে বেশ কঠিন, তা-ও বিনম্রভাবে জানাচ্ছেন রবীন্দ্রবাবু।
দীর্ঘ দিনের চেনা ‘শুভেন্দু’ আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রবীন্দ্রবাবুর চোখে তিনি আজও সেই আগের মতোই আছেন। রবিদার কথায়, "এত বড় পদে বসার পরেও ওর মধ্যে কোনও অহংবোধ দেখিনি।" আর ঠিক এই কারণেই, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা মানুষের কাছে পোশাকের বিষয়ে আজও সব থেকে বড় ভরসার নাম কাঁথির ‘রবিদা’।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
