চেয়ারম্যানের ঘরে তালা ঝুলিয়ে মমতার ছবি সরালো বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন, শোরগোল তমলুকে।উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যানের ঘরে তালা ঝোলানোর ঘটনায় ব্যাপক…
চেয়ারম্যানের ঘরে তালা ঝুলিয়ে মমতার ছবি সরালো বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন, শোরগোল তমলুকে।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যানের ঘরে তালা ঝোলানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। কেবল তালা ঝোলানোই নয়, চেয়ারম্যানের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে সেখানে মণীষীদের ছবি টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন 'অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ'-এর বিরুদ্ধে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অমিতাভ মণ্ডলের নেতৃত্বে এদিন একদল সদস্য ডিপিএসসি অফিসে চড়াও হন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের পদটি আদালত আগেই অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তাসত্ত্বেও তিনি স্বপদে আসীন থেকে অবৈধ বদলি ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে দাবি তাঁদের।
অমিতাভবাবু স্পষ্ট জানান:
"সরকার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে উনি যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল লোপাট করতে না পারেন, সেই কারণেই আমরা ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। ওঁর ঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, তা সরিয়ে আমরা স্বামী বিবেকানন্দ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি লাগিয়েছি।"
ঘরবন্দি হওয়া বা বিক্ষোভের মুখে পড়া নিয়ে অবশ্য বিশেষ বিচলিত দেখা যায়নি অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে। পালটা প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "এখন তো আমাদের সরকার নেই। তাই আমি আর ওই দপ্তরে যাচ্ছি না। সেখানে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি দ্রুত আমার স্কুলের কাজে ফিরে যাব।"
অন্যদিকে, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) চন্দ্রশেখর জাউলিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, "আমি শুনেছি একটি শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা এসে চেয়ারম্যানের ঘরের ছবি বদলে দিয়েছেন এবং তালা ঝুলিয়েছেন। ফাইল সরিয়ে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েই তাঁরা এই কাজ করেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।"
বিজেপি পন্থী শিক্ষক সংগঠনের দাবি, তাঁরা কেবল দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট রুখতেই এই পদক্ষেপ করেছেন।
তবে তালা কবে খুলবে, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা মেলেনি।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ।
