Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

‘আমি মা, তাই ফাঁসি চাইছি না’, চন্দ্রনাথ খুনে দোষীদের যাবজ্জীবন চাইলেন শোকাতুর জননী


‘আমি মা, তাই ফাঁসি চাইছি না’, চন্দ্রনাথ খুনে দোষীদের যাবজ্জীবন চাইলেন শোকাতুর জননী​ছেলের নিথর দেহের দেখে আর নিজেদের সামলাতে পারলো না পথ চেয়ে বসে থাকা গ্রামবাসী। চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামের আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে স্বজন হারানোর…

 ​


‘আমি মা, তাই ফাঁসি চাইছি না’, চন্দ্রনাথ খুনে দোষীদের যাবজ্জীবন চাইলেন শোকাতুর জননী

​ছেলের নিথর দেহের দেখে আর নিজেদের সামলাতে পারলো না পথ চেয়ে বসে থাকা গ্রামবাসী। চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামের আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে স্বজন হারানোর কান্নায়। কিন্তু শোকের সেই পাহাড়প্রমাণ চাপের মধ্যেও এক অদ্ভুত মাতৃত্বের নজির গড়লেন নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী দেবী। নিজের বড় সন্তানকে হারিয়েছেন আততায়ীর গুলিতে, অথচ সেই অপরাধীদের জন্য ‘ফাঁসি’ চাইলেন না তিনি। ধরা গলায় বললেন, “আমিও তো মা, তাই ওদের ফাঁসি চাইছি না। দোষীদের যেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।”

​পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের মেধাবী ছাত্র চন্দ্রনাথের পরিচিতি ছিল এলাকা জুড়েই। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন এই কর্মী অবসর নেওয়ার পর হয়ে উঠেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী। পরিবারের দাবি, রাজনীতি নয়, বরং অধিকারীর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিলে চন্দ্রনাথও তাঁর অনুগামী হিসেবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। হাসিরানী দেবী নিজেও চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্যা।

​ছায়াসঙ্গীর নেপথ্য কাহিনি

শান্তিকুঞ্জের সঙ্গে চন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। বায়ুসেনায় থাকাকালীন ছুটিতে বাড়ি এলেই তিনি পৌঁছে যেতেন অধিকারী ভবনে। চন্দ্রনাথের জেঠু হরিপদ রথ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেনাবাহিনীর নিয়মানুবর্তিতা ওর রক্তে ছিল। শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে ও পর্দার আড়ালে থেকে রাজনৈতিক কৌশল এবং দৈনন্দিন কর্মসূচি সামলাত। ও শুধু পিএ ছিল না, ছিল পরিবারের সদস্যের মতো।”

বছর দুই আগে বাবা ওঙ্কারপদ রথ গত হয়েছেন। বিয়ে করেননি চন্দ্রনাথ। বাড়িতে মা, ভাই ও ভাতৃবধূকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। ঘটনার দিন দুপুরে মায়ের হাতের রান্না তৃপ্তি করে খেয়ে বের হয়েছিলেন কাজে। কে জানত, মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় যশোর রোডের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকার থেকে ধেয়ে আসবে ঘাতক গুলি! চলন্ত গাড়িতে সেই হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ।

​হাসিরানী দেবীর অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূলের দিকে। তাঁর কথায়, “ভোটের প্রচারে তৃণমূলের নেতারা গরম গরম ভাষণ দিত। ওরাই পরিকল্পনা করে আমার ছেলেকে মারল। দুর্ঘটনা হলে মেনে নিতাম, কিন্তু এভাবে পরিকল্পিত খুন মেনে নেওয়া যায় না।”

চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কুলুপ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শোকের ছায়া। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতায় ময়নাতদন্তের পর দেহ চণ্ডীপুরের বাড়িতে আনা হবে শেষকৃত্যের জন্য। মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনার জওয়ান, আর শেষ জীবনে রাজনীতির অলিন্দে বিশ্বস্ত সৈনিক— চন্দ্রনাথের এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছে না পূর্ব মেদিনীপুর।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ