Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

বিশ্বরেকর্ড করে পক প্রণালী জয় করে মেদিনীপুরে ফিরে আফরিন জাবি পেলেন রাজকীয় সংবর্ধনা

মেদিনীপুরের মাথার মুকুটে জুড়লো আরও একটি পালক। সমস্ত বাধা বিপত্তিকে দূরে ঠেলে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পর এবার পকপ্রণালীও জয় করে ফেললেন মেদিনীপুরের 'জলকন্যা' আফরিন জাবি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী ২৯ কিমি দীর্ঘ এই পক প্রণালী…


মেদিনীপুরের মাথার মুকুটে জুড়লো আরও একটি পালক। সমস্ত বাধা বিপত্তিকে দূরে ঠেলে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পর এবার পকপ্রণালীও জয় করে ফেললেন মেদিনীপুরের 'জলকন্যা' আফরিন জাবি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী ২৯ কিমি দীর্ঘ এই পক প্রণালী জয় করতে তিনি সময় নিয়েছেন ৭ ঘন্টা ৫ মিনিট।যা একটি বিশ্বরেকর্ড।

এর আগে কোনো মহিলা বা পুরুষ সাঁতারু এত কম সময়ে পক প্রণালী অতিক্রম করতে পারেন নি।।৯ এপ্রিল শনিবার ভারতীয় সময় ভোর ৩: ৩৫ নাগাদ তিনি সাঁতার শুরু করেন শ্রীলংকার থালাইমাল্লার থেকে। টানা ৭ ঘন্টা ৫ মিনিট সাঁতরে ১০. ৪০ এ সফলভাবে পৌঁছান তামিলনাড়ুর ধনুষকোটিতে। ইংলিশ চ্যানেলের পর পকপ্রণালী জয় করে রীতিমতো আনন্দে আত্মহারা আফরিন। ফোনে জানিয়ে ছিলেন একটা চ্যালেঞ্জ ছিল,জয় করতে পারলাম,ভালো লাগছে ।

   আফরিন জাবি মেদিনীপুর শহরের দেওয়ানবাবা চক এলাকায় থাকেন।  বাবা শেখ পিয়ার আলী, মা সাবিনা পারভীন তাঁর এই জলপথ জয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন। মেয়ের জয়ে খুশি বাবা-মা। ২০২৫ সালের ২৯ শে জুলাই আফরিন ইংলিশ চ্যানেল জয় করেছিলেন। সেই সময় ৩৪ কিমি সেই জলপথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। এবার ভারত শ্রীলংকার মধ্যবর্তী পথ প্রণালী ২৯ কিলোমিটার জলপথ ৭ ঘন্টা ৫ মিনিটেই অতিক্রম করে ফেললেন। ইংলিশ চ্যানেলের জয়ের পর পক প্রণালী জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন আফরিন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। আফরিনের কথায় ইংলিশ চ্যানেল জয় করতে গিয়ে তাঁর বাবার সঞ্চিত অর্থের প্রায় সিংহ ভাগ খরচ হয়ে গিয়েছিল। এই আর্থিক বাধা দূর করতে পক প্রণালী জয়ের আগে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় মেদিনীপুর রোটারী ক্লাব ও মেদিনীপুর রোটারী আই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পক প্রণালী জয়ের উদ্দেশ্য রওয়ানা হওয়ার আগে রোটারীর পক্ষ থেকে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠান ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ট্রেনে খড়্গপুরে নামেন আফরিন জাবি। সেখানে থেকে রোটারীর উদ্যোগে হুড খোলা গাড়িতে চাপিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহযোগে মেদিনীপুর নিয়ে আসা হয়।আসার পথে আফরিনের সাথী হয়েছিলেন তাঁর পিতা পিয়ার আলি,মা সাবিনা পারভীন। রোটারী পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মদন মোহন মাইতি,প্রশাসক সত্যব্রত রায় সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ছিলেন মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের প্রতিনিধিরা। ছিলেন চেম্বার অব কমার্সের জেলা সম্পাদক চন্দন বসু, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কুন্দন গোপ, বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রেমী তপন কুমার সাহা, ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় আফরিন জাবিকে ফুলের মালা,পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। রাস্তার দুপাশের মানুষ আফরিনের উদ্দেশ্যেৎ হাত নাড়তে থাকেন। শোভাযাত্রা রোটারী আই হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে আফরিন জাবিকে রোটারীর পক্ষ থেকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় ।


উপস্থিত ছিলেনমেদিনীপুর চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক চন্দন বসু, মেদিনীপুর রোটারী আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মদন মোহন মাইতি, রোটারী ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট দীপক সিনহা, হাসপাতালের প্রশাসক সত্যব্রত রায়, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ ইন্দ্রনীল দেব, সুইমিং ক্লাবের সম্পাদক পল্লব চ্যাটার্জি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কুন্দন গোপ, সমাজকর্মী শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন আই হাসপাতালের চিকিৎসকগন ও স্বাস্থ্য কর্মীগন এবং আফরিনের শুভানুধ্যায়ীরা।আফরিন তাঁর বক্তব্যে মেদিনীপুর রোটারী ক্লাব, রোটারী আই হাসপাতাল, মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব ও মেদিনীপুরের জনগণকে তাঁর কৃতজ্ঞতা জানান।তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাঁর যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য ক্যাটারিনা প্রণালী।