অরুণ কুমার সাউ তমলুক: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মেদিনীপুর জেলা বরাবরই ‘কিং মেকার’-এর ভূমিকা পালন করেছে। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছরের পর অখণ্ড মেদিনীপুর জেলা আবার ফিরে পেল রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদ। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর মেদিনীপুরের দ্বিতীয় ভ…
অরুণ কুমার সাউ তমলুক: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মেদিনীপুর জেলা বরাবরই ‘কিং মেকার’-এর ভূমিকা পালন করেছে। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছরের পর অখণ্ড মেদিনীপুর জেলা আবার ফিরে পেল রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদ।
অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর মেদিনীপুরের দ্বিতীয় ভূমিপুত্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৬৭ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে ২০২৬-এর আশ্চর্য মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তমলুকের মালিজঙ্গল পাড়ার বাসিন্দা অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় ১৯৬৭ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে আরামবাগ কেন্দ্রে পরাজিত করেছিলেন।
একইভাবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত করে ইতিহাস গড়লেন। অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতোই তিনিও দুটি কেন্দ্র (নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর) থেকে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেছেন।
১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য মাইলফলকগুলী হল ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে যাত্রা শুরু। ২০০১ ও ২০০৪ সালে পরাজয়ের সম্মুখীন হলেও দমে যাননি। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিধায়ক হন এবং ২০০৯ সালে বাম দুর্গের পতন ঘটিয়ে লক্ষণ শেঠকে পরাজিত করে সাংসদ হন।
তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন থাকলেও, পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে ২০২০ সালের ১৯শে ডিসেম্বর বিজেপিতে যোগদান করেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হওয়া এবং অবশেষে ২০২৬ সালে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসা।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন- "মেদিনীপুরের মাটি বিপ্লবীদের মাটি। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করল।"
অজয় মুখোপাধ্যায় চতুর্থ ও ষষ্ঠবারের জন্য বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হয়েছিলেন। এবার ২০২৬ সালে মেদিনীপুরের আরেক কৃতি সন্তান শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

