বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়। তমলুকরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুলবাজার হল-পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ফুলবাজার। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের কোলাঘাট স্টেশনের ডাউন এক নম্বর প্লাটফর্ম লাগোয়া নয়নজুলির এক কোণে মাত্র ২০৮৬ বর্গমিটার জায়গার উপরে ব…
বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়। তমলুক
রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুলবাজার হল-পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ফুলবাজার। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের কোলাঘাট স্টেশনের ডাউন এক নম্বর প্লাটফর্ম লাগোয়া নয়নজুলির এক কোণে মাত্র ২০৮৬ বর্গমিটার জায়গার উপরে বসে এই ফুলের বাজার। বাজারে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলায় তিন থেকে চার হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী প্রতিদিন ফুল কেনা-বেচার কারণে আসেন। বাজারে ফুল কেনা-বেচার জন্য রেল দপ্তরকে তে-বাজারি টিকিট বাবদ প্রতিদিন প্রতি চাষী ও ব্যবসায়ীকে দিতে হয় ১০ টাকা, দোকানদার ও পাল্লাওয়ালাদেরকে দিতে হয় ছোট জায়গা ব্যবহারকারীদের জন্য ২৫ টাকা,বড় জায়গা ব্যবহারকারীদের জন্য ৪২ টাকা। এতদিন পর্যন্ত রেল দপ্তরের কর্মচারীরাই ওই টিকিট কেটে অর্থ আদায় করতেন। সম্প্রতি রেল দপ্তর ওই অর্থ আদায়ের জন্য বেসরকারি লোক নিয়োগ করবার জন্য টেন্ডার প্রসেসিং করতে চলেছেন। ইতিমধ্যে কোলাঘাটের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ারের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই প্রস্তাবে রেলওয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার(এ.ডি.ইএন.) ও ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার(ডি.ইএন.)পূর্বেরও সম্মতি মিলেছে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জয়েন্ট ইনস্পেকশনের পর টেন্ডার নোটিশ করে নিলাম করা হবে বলে রেল দপ্তর সূত্রের খবর।
এ বিষয়ে কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে নারায়ণ চন্দ্র নায়েক বলেন রেল দপ্তরের খড়গপুরের সিনিয়র ডি. ইএন.(পূর্ব),পাঁশকুড়ার এ.ডি.ইএন. ও তমলুকের মহকুমা শাসক কে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পূর্বেও এ ধরনের উদ্যোগ একবার নেওয়া হয়েছিল রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে। আমরা সেই সময় আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে হর্টিকালচার দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী ও জেলা-রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করে রেল দপ্তরের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সমর্থ হই। শীঘ্রই এ বিষয়ে বাজারে আগত ফুলচাষী-ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বেসরকারি ভাবে অর্থ আদায়ের জন্য টেন্ডার দেওয়া হলে ক্ষুদ্র চাষী-ব্যবসায়ীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এমনিতেই যে সময় ফুলের দাম থাকে না, চাষীরা ফুল ফেলে দিতে বাধ্য হয়। তার উপর বাজারে বসার জন্য অত্যধিক পরিমাণে টাকা আদায় করা হলে চাষীরা ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হবেন।
