Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

কোমরে দড়ি দিয়ে ঘোরানো হলো প্রাক্তন পুরপ্রধানকে! তমলুক পুরসভায় নিয়ে গিয়ে চঞ্চল খাঁড়াকে জেরা পুলিশের

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে তৃণমূলের অন্দরে তাঁর দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা তাম্রলিপ্ত পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার খাঁড়ার ঠাঁই হয়েছে…

 


রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে তৃণমূলের অন্দরে তাঁর দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা তাম্রলিপ্ত পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার খাঁড়ার ঠাঁই হয়েছে শ্রীঘরে। এবার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

​কয়েক দিন আগেই বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করে চঞ্চল খাঁড়াকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল তমলুক থানার পুলিশ। সোমবার তদন্তের জল গড়ায় তাম্রলিপ্ত পুরসভা ভবন পর্যন্ত। এদিন ধৃত কাউন্সিলরকে তমলুক থানা থেকে সরাসরি পুরসভায় নিয়ে যান তদন্তকারীরা।

​পুরপ্রধানের ঘরে মুখোমুখি জেরা

​পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত চঞ্চল খাঁড়াকে সঙ্গে নিয়েই তাম্রলিপ্ত পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহার ঘরে ঢোকেন তমলুক থানার আধিকারিকরা। চঞ্চলকে সামনে বসিয়েই বর্তমান চেয়ারম্যানকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুরসভার একাধিক নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী বোর্ডের কাজকর্ম নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলে।

​এই প্রসঙ্গে বর্তমান পুরপ্রধান বৈদ্যনাথ সিনহা বলেন:

​"তমলুক থানা থেকে পুলিশ এসেছিল। চঞ্চল কুমার খাঁড়া যখন চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন, তখন তিনি আমাকে কী কী নথি হস্তান্তর করেছিলেন— মূলত সেটাই জানতে চায় পুলিশ। আমি তাঁদের জানিয়েছি, আমাকে চার্জ হ্যান্ডওভার করেছিলেন মহকুমা শাসক। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আমাকে আবার ডাকলে আমি নিশ্চয়ই যাব এবং সব রকম সহযোগিতা করব।"

​পৌরসভা ভবনে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর চঞ্চল খাঁড়াকে যখন নিচে নামানো হয়, তখন দেখা যায় তাঁর কোমরে বাঁধা রয়েছে দড়ি। ওই অবস্থাতেই তমলুক শহরের রাজপথ দিয়ে বেশ কিছুটা পথ হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় একসময়ের এই দাপুটে তৃণমূল নেতাকে। এরপর তমলুকের জেলখানা মোড় থেকে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তুলে পুনরায় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

​ক্ষমতার অলিন্দে থাকা একসময়ের প্রভাবশালী নেতার এই পরিণতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। এই বিষয়ে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর শবরী চক্রবর্তী বলেন, "এটা সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। ক্ষমতার দম্ভে এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে পরবর্তী সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় এবং এভাবে হেনস্থা হতে হয়।"

​আদালতের নির্দেশে চঞ্চল খাঁড়া বর্তমানে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ধৃত নেতার আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই এই দফায় দফায় জেরা এবং পুনর্নির্মাণ। আগামী দিনগুলিতে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও বেশ কিছু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ