আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেডকোয়ার্টার ছিল পাহাড়তলী চট্টগ্রাম। এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শনের জন্য আমি পরপর দুবার গিয়েছিলাম। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্তরসুরী হিসেবে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। কত সময় যে সেখানে কাটিয়েছি। এই স্মৃতি আমাকে ব…
আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেডকোয়ার্টার ছিল পাহাড়তলী চট্টগ্রাম। এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শনের জন্য আমি পরপর দুবার গিয়েছিলাম। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্তরসুরী হিসেবে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। কত সময় যে সেখানে কাটিয়েছি। এই স্মৃতি আমাকে বারবার কামড় দেয়। তাই আজকের এই লেখাটি পাঠক বন্ধুদের জন্য নিবেদন করছি।
আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের টাকা বা পোস্টাল ব্যাগ ডাকাতির ঘটনাটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের একটি বিখ্যাত সশস্ত্র অভিযান, যা ১৯২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ঘটেছিল। সরকারি টাকা এই পথেই পৌঁছে দেওয়া হত। এই সংবাদ সর্বজনবিদিত। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি "চট্টগ্রাম মেল ডাকাতি" বা "আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে ট্রেন ডাকাতি" নামে খ্যাত।
পাহাড়তলীতে কিভাবে হয়েছিল আসাম বেঙ্গল ট্রেন ডাকাতি। ১৯২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের টাইগার পাস মোড়ে সূর্য সেনের (মাস্টারদা) বিপ্লবী দলের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে এই ডাকাতি বা সফল ছিনতাইটি করেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তহবিল সংগ্রহের জন্য বিপ্লবীদের গোপন দল এই দুঃসাহসিক রোমাঞ্চকর অভিযান পরিচালনা করে। তখন চট্টগ্রাম কোর্টের সরকারি ট্রেজারি বা কোষাগার থেকে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন ও পেনশনের টাকা পাহাড়তলীতে নিয়ে যাওয়া হতো।
২৩ ডিসেম্বর, ১৮,০০০ টাকার (মতান্তরে তারও বেশি) বস্তা সরকারি কর্মচারীরা যখন কড়া নিরাপত্তায় বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই টাইগার পাস নামক নির্জন স্থানে বিপ্লবীরা অতর্কিত হামলা চালান। অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে কোনো রক্তপাত ছাড়াই তারা টাকার বস্তা ছিনতাই করে নিরাপদে সরে পড়েন।
আসাম বেঙ্গল ট্রেন ডাকাতি মামলায় বিপ্লবীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেছিলেন প্রখ্যাত বাঙালি আইনজীবী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, বিশিষ্ট ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, এবং উত্তর ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী জগৎ নারায়ণ মোল্লা, কৃষ্ণ বাহাদুর ও গোবিন্দ বল্লভ পন্থ।
ঐতিহাসিক স্থানটির স্মৃতি পাহাড়ি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশটি খুব মনোরম।
_________________________________________

