অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: সরকারি নির্দেশ ও আইন অমান্য করে যে সমস্ত স্কুল শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা (টিউশন) করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উত্তাল হলো পূর্ব মেদিনীপুর। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির পূর্ব …
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: সরকারি নির্দেশ ও আইন অমান্য করে যে সমস্ত স্কুল শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা (টিউশন) করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উত্তাল হলো পূর্ব মেদিনীপুর। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তমলুকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই)-এর কাছে একটি স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। এই ডেপুটেশনে নিয়মভঙ্গকারী শিক্ষকদের একটি নামের তালিকা ও লিখিত অভিযোগপত্রও প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২৫টি ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক গৃহ শিক্ষক তমলুকে এসে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার ভূঞ্যা, জেলা সভাপতি চন্দন কুমার পাল, জেলা যুগ্ম সম্পাদক দীপু খান ও আকাশ আলী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন সহ বিভিন্ন ব্লকের সভাপতি ও সম্পাদকরা ও অন্যান্য সদস্য। আন্দোলনকারী নেতাদের অভিযোগ, সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জেলার একাধিক স্কুলের শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত স্তরে টিউশন এবং কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। এর ফলে সাধারণ গৃহশিক্ষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।
জেলা যুব সম্পাদক দীপু খান বলেন “সরকারের জারি করা নির্দেশিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সমস্ত স্কুল শিক্ষক এখনও টিউশন করাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন জানান, “আইন ভঙ্গকারীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা উচিত নয়। আমরা চাই এই অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।” রাজ্য কমিটির কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার ভূঞ্যা বলেন, “জেলার বহু শিক্ষক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোচিং ব্যবসা চালাচ্ছেন। এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।” ডেপুটেশন গ্রহণ করার পর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) পলাশ রায় সংগঠনের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত নির্দেশ পাঠানো হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা সভাপতি চন্দন কুমার পাল উপস্থিত সমস্ত সদস্য ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


