অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষা চালু করে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শিক্ষকেরা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবা…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষা চালু করে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শিক্ষকেরা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। "টেট এফেক্টেড টিচার্স"-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই শামিল হন দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ পিটিশনের রায়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২৮-এর মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় চাকরি ও পেনশন— দুই-ই হারাতে হতে পারে। ২০১১ সালে টেট চালু হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকরাও এই রায়ের ফলে চরম সংকটে।আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০-২৫ বছর শিক্ষকতা করার পর এই বয়সে এসে টেট পরীক্ষা দেওয়া অবাস্তব। এর ফলে দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ এবং এই রাজ্যের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আজ তমলুকের মানিকতলা মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত এক প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। মিছিল শেষে রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে জেলাশাসক , মাধ্যমিক ও প্রাথমিক জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।এ রাজ্যে আন্দোলনকে জোরদার করতে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি, বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি সহ সাধারণ শিক্ষকেরা দলমত নির্বিশেষে এক মঞ্চে এসেছেন। আজকের সভায় বক্তব্য রাখেন সতীশ সাউ, গৌর চন্দ্র প্রতি, গৌরহরি মান্না প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব দাস, শম্ভু মান্না, আনন্দ হান্ডা ও সৌমিত্র পট্টনায়েকের মতো শিক্ষক নেতারা।নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অর্ডিন্যান্স জারি করে বা গত ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শিক্ষার্থীবিরোধী এই রায়ের বিরুদ্ধে ও নিজেদের চাকরি বাঁচাতে সমস্ত কর্মরত শিক্ষককে দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্ব।
