বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়। তমলুক বাধ্যতামূলক ভাবে শিক্ষকদের টেট পাশ করার মাধ্যমে চাকরি রক্ষা করা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিল করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোমবার তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা …
বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়। তমলুক
বাধ্যতামূলক ভাবে শিক্ষকদের টেট পাশ করার মাধ্যমে চাকরি রক্ষা করা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিল করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোমবার তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে কোলাঘাট ব্লকের প্রায় দুই শতাধিক প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকা কোলাঘাট বি ডি ও অফিস থেকে বিবেকানন্দ মুর্তি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলের শেষে বি ডি ও অফিসের সামনে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৬ জুন উত্তর প্রদেশে আন্দোলনকারী শিক্ষকগণ সে রাজ্যে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা করেছেন। সভা থেকে সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঐদিন কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে কোলাঘাট এবং কোলাঘাট ১ চক্রে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। নেতৃত্ব দেন আনন্দ হাণ্ডা, সুজিত দাস, মেঘনাথ খামরই, মৃত্যুঞ্জয় বারিক, সুবল সামন্ত, বৃন্দাবন মাইতি, জ্যোতির্ময় বর্মন, শ্রীমন্ত মন্ডল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এই রায় দিয়েছিল। এই রায়ে হতাশায় ইতিমধ্যে বহু শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শিক্ষকরা আন্দোলন করেছেন এবং পাশাপাশি এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে ৬৯ টি রিভিউ পিটিশন দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘ ৮ মাস পর গত ২৯ মে একই রায় বহাল রাখে।
এই আদেশের ফলে সারা দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তার মধ্যে এ রাজ্যের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। এমনিতেই ছাত্র অভাবে বেশিরভাগ সরকারি বিদ্যালয় ধুঁকছে। তার ওপর এতো বিশাল সংখ্যক শিক্ষক চাকরিচ্যুত হলে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি বিদ্যালয় থাকবে না।
অথচ এহেন সমস্যা সমাধানে কি কেন্দ্রীয় সরকার কি রাজ্য সরকার কোনোরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এমনকি তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে পর্যন্ত আদালতে দেওয়া হয়নি। শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের শাসক দলের ১৩ জন সাংসদ এ নীতির বিরোধিতা করলেও সরকার নিশ্চুপ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে টেট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজ্য অন্যান্য বিষয়ে পদক্ষেপ পদক্ষেপ নিলেও এব্যাপারে অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
