দুই দিনেই জনকল্যাণ শিবিরে এক লক্ষের ভিড়, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ পেলেন প্রায় ২০০ মহিলা। মহিলাদের হাতে শংসাপত্র তুলে দিলেন তমলুক ব্লকের বিডিও দেবাশীষ দত্ত।জেলাজুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল ভিড়। প্রথম দু’দিনেই প্রায় এক লক্ষ ম…
দুই দিনেই জনকল্যাণ শিবিরে এক লক্ষের ভিড়, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ পেলেন প্রায় ২০০ মহিলা। মহিলাদের হাতে শংসাপত্র তুলে দিলেন তমলুক ব্লকের বিডিও দেবাশীষ দত্ত।
জেলাজুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল ভিড়। প্রথম দু’দিনেই প্রায় এক লক্ষ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুবিধা নিতে শিবিরগুলিতে হাজির হয়েছেন। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই শিবিরগুলিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোগে যুক্ত মহিলাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ প্রকল্পে মিলেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
প্রাথমিকভাবে তিন দিনের জন্য এই জনকল্যাণ শিবিরের পরিকল্পনা করা হলেও, মানুষের ব্যাপক উৎসাহ এবং আবেদনকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার আরও একদিন শিবিরের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগামী ১৮ জুনও জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় এই শিবির চলবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রচারও শুরু করেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ৫৬টি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি ব্লকে ৪৪টি এবং পাঁচটি পুরসভা এলাকায় ১২টি শিবির চলছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি শিবিরেই পরিষেবা প্রদানের কাজ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে।
এ বারের শিবিরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘পিএম ফরমালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যুক্ত ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রকল্প গড়ে তোলা কিংবা পুরনো উদ্যোগের সম্প্রসারণ— দুই ক্ষেত্রেই প্রকল্প ব্যয়ের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকির সুবিধা মিলছে।
বুধবার তমলুক ব্লকের জনকল্যাণ শিবিরে চার জন উপভোক্তার হাতে ঋণের অনুমোদনপত্র তুলে দেন তমলুকের বিডিও দেবাশীষ দত্ত। ঋণ প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন তমলুক ব্লকের অনুপমা আদক এবং নন্দকুমার ব্লকের শিলা রানী দাস।
অনুমোদনপত্র হাতে পেয়ে দুই উপভোক্তাই জানান, এতদিন ছোট পরিসরে বড়ি তৈরির ব্যবসা চালালেও মূলধনের অভাবে তা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ঋণের জন্য আবেদন করার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই অনুমোদন পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহিত। এই সহায়তার ফলে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে এবং তাঁরা স্বনির্ভর হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন-
“জনকল্যাণ শিবিরে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন পরিষেবার কাজ হচ্ছে। ভর্তুকিযুক্ত ঋণের জন্য আবেদনকারী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন পেয়েছেন। এর ফলে তাঁরা নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন। জেলার সব শিবিরেই সুষ্ঠুভাবে কাজ চলছে, এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।”
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
