ভাই-বোনের সম্পর্কের টানে বিশ্বাস করে সর্বস্বান্ত হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার পুরুষোত্তমপুর এলাকার এক গৃহবধূ। লন্ডনের এক বাসিন্দার পরিচয়ে অপরিচিত ব্যক্তির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ওই গৃহবধূ খুইয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। গয়না বিক…
ভাই-বোনের সম্পর্কের টানে বিশ্বাস করে সর্বস্বান্ত হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার পুরুষোত্তমপুর এলাকার এক গৃহবধূ। লন্ডনের এক বাসিন্দার পরিচয়ে অপরিচিত ব্যক্তির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ওই গৃহবধূ খুইয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। গয়না বিক্রি, জমির দলিল বন্ধক এবং ধার করে টাকা জোগাড় করেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে জেলা সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ১২ জুন অঙ্কিতা প্রধান মণ্ডল নামে ওই গৃহবধূর কাছে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে লন্ডনের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। সে জানায়, তার বাবা-মা নেই। এই পরিচয় দেওয়ার পরই ওই ব্যক্তি অঙ্কিতাকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যেই গড়ে ওঠে বিশ্বাসের সম্পর্ক। এর পরেই ওই ব্যক্তি জানায়, সে অঙ্কিতার জন্য সোনা ও হিরের গয়না-সহ একাধিক দামি উপহার পাঠাচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে সে উপহারের ছবিও পাঠায়।
অভিযোগ, এর কিছু দিন পরেই কুরিয়ার সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তি অঙ্কিতাকে ফোন করে। পার্সেল ছাড়ানোর নাম করে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন অছিলায় শুরু হয় টাকা হাতানোর খেলা। কুরিয়ার সংস্থার ওই ব্যক্তি দাবি করে, পার্সেলে থাকা গয়না সিবিআই আটক করেছে। তা ছাড়াতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এর পরে জানানো হয়, পার্সেলে প্রচুর ডলার রয়েছে, যার জন্য আরও সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানিয়েছেন, প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে তিনি এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে টাকা জোগাড় করতে নিজের সোনার গয়না বিক্রি করে দেন। এমনকি জমির দলিল বন্ধক রাখা এবং পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করেও টাকা তুলে দেন প্রতারকদের হাতে। এভাবে মোট ১০ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর, প্রতারকরা ফের জিএসটি-র নাম করে আরও ১৯ লক্ষ টাকা দাবি করে। তখনই ওই গৃহবধূর সন্দেহ হয় এবং তিনি বিষয়টি তার স্বামীকে জানান।
পুরো ঘটনা জানার পর হতবাক স্বামী তৎক্ষণাৎ জেলা সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অঙ্কিতা জানান, মোবাইল ব্যবহারে অনভিজ্ঞ হওয়া এবং ভাই-বোনের সম্পর্কের দোহাই দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করার ফলেই তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি প্রতারিত হচ্ছেন। গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মেদিনীপুর জেলা সাইবার থানা।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
