Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই তাম্রলিপ্ত পুরসভার রাশ আলগা হল শাসকদলের হাত থেকে

সোমবার এক বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হল তাম্রলিপ্ত পুরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহার পদত্যাগপত্র। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে একাধিক পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভার জন…


সোমবার এক বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হল তাম্রলিপ্ত পুরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহার পদত্যাগপত্র। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে একাধিক পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ এবং পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। সেই আবহেই এ বার তাম্রলিপ্ত পুরসভার অন্দরেও পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট হল।

​পুরসভা সূত্রে খবর, এ দিনের বৈঠকে মোট ১৬ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুপস্থিতির তালিকাও ছিল দীর্ঘ। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল খাঁড়া এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কানাইলাল দাস বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকায় বৈঠকে হাজির থাকতে পারেননি। এ ছাড়া, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গৌতম পাল ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিমল ভৌমিকও এ দিনের বৈঠক এড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত অধিকাংশ কাউন্সিলরের সর্বসম্মত সম্মতিতে চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হয়।


​পদত্যাগের পর বৈদ্যনাথ সিনহা নিজের সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘‘কিছুদিন ধরেই শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলাম। একটা মানসিক চাপও তৈরি হয়েছিল। ফলে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছিলাম না। তার উপর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে জনসমর্থনের ছবিটাও অনেকটাই বদলেছে। এই পরিস্থিতিতে নৈতিক ভাবে এই পদে থাকা আর সমীচীন মনে করিনি।’’ তবে অন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন বিদায়ী চেয়ারম্যান। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘‘আপাতত অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি। বিষয়টি নিয়ে পরে অন্যান্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব।’’

​অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে। বিজেপির কাউন্সিলর তথা পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী জয়া দাস নায়েক বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান আগেই লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সোমবার বোর্ড মিটিংয়ে তা সরকারি ভাবে গৃহীত হয়েছে।’’ জেলা পরিষদের পর এ বার কি তমলুক পুরসভাতেও ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটবে বিজেপি? এই জল্পনা অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি জয়াদেবী। তাঁর কৌশলী মন্তব্য, ‘‘এ বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বই নেবে।’’

​রাজনৈতিক মহলের মতে, তমলুক পুরসভার এই পালাবদল জেলা রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ