ক্ষুধাই শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা /অমৃত মাইতি
"পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা হলো ক্ষুধা" - এই গভীর দার্শনিক সত্যটি জীবনের এক অনন্য রূপ। ক্ষুধা কেবল উদরের শূন্যতা নয়, এটি বেঁচে থাকার, অস্তিত্বের এবং পৃথিবীর সৃষ্টির এক আদিম ও পবিত্র…
"পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা হলো ক্ষুধা" - এই গভীর দার্শনিক সত্যটি জীবনের এক অনন্য রূপ। ক্ষুধা কেবল উদরের শূন্যতা নয়, এটি বেঁচে থাকার, অস্তিত্বের এবং পৃথিবীর সৃষ্টির এক আদিম ও পবিত্রতম প্রমাণ।
এর মূল কারণ হলো, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। ক্ষুধা মানুষকে কর্মচঞ্চল করে তোলে। এটিই প্রথম তাড়না যা জীবিকাসন্ধানে মানুষকে ঘর থেকে বের করে এবং বাঁচতে শেখায়। ক্ষুধার অনুভূতি মানুষকে তার অসহায়ত্বকে ক্ষুধার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। অন্ন পাওয়ার আকুলতা নিজেই এক নীরব ও গভীর প্রার্থনা। অপরের ক্ষুধা দেখার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার জন্ম হয়। ক্ষুধার যন্ত্রণা মানুষকে সমব্যথী করে তোলে। ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করাকে অনেকেই মনুষ্য ধর্মে শ্রেষ্ঠ কাজ বা প্রার্থনা হিসেবে গণ্য করে। এ যুগের মানবিক কবি সুকান্তের কবিতায়ও ক্ষুধা নিয়ে নান্দনিক কবিতা দেখেছি "পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য কর্মের সন্ধানই একমাত্র আশু কর্তব্য। একজন ক্ষুধার্ত মানুষ পথে পথে দোকানে ফুটপাতে খাদ্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। কোন রকম ধর্ম মন্দিরে তাকে যেতে দেখি না। হ্যাঁ ধর্ম মন্দিরেও যায় হাত পেতে ভিক্ষা চাইতে। আমার মতে ক্ষুধাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।
___________________
