Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ধর্মনগর ও ঊনকোটি/অমৃত মাইতি

ত্রিপুরার উত্তর জেলার সদর শহর হলো ধর্মনগর, যা রাজধানী আগরতলার পরে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আগরতলা থেকে ট্রেন এবং সড়ক পথ দুটোই যাওয়ার পক্ষে সুবিধা জনক। ট্রেনে যেতে ভালো লাগে কারণ প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া য…

 


ত্রিপুরার উত্তর জেলার সদর শহর হলো ধর্মনগর, যা রাজধানী আগরতলার পরে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আগরতলা থেকে ট্রেন এবং সড়ক পথ দুটোই যাওয়ার পক্ষে সুবিধা জনক। ট্রেনে যেতে ভালো লাগে কারণ প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া যায়। বেশিরভাগ রাস্তাই বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এবং জুরী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য পরিচিত। 


ভৌগোলিক অবস্থান ও গুরুত্ব:

ধর্মনগর ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এর একদিকে বাংলাদেশের সিলেট (ফুলতলা), অন্যদিকে অসমের করিমগঞ্জ জেলা এবং মিজোরাম রাজ্য। পূর্বে শহরটির নাম ছিল 'ফটিকুলী বাজার'। এটি মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং এখানে বহু ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। "জলজ" পত্রিকার সম্পাদক সন্তোষ রায়ের আমন্ত্রণে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। নির্ধারিত দিনে কবি সাহিত্যিক সম্পাদক রামেশ্বর ভট্টাচার্য এবং কৃত্তিবাস চক্রবর্তীর সঙ্গে। সাহিত্যিক রাতুল দেববর্মনের ধর্মনগর যাওয়ার কথা ছিল আমাদের সঙ্গে। শেষ মুহূর্তে রাতুল যাওয়া বন্ধ করলো। সকালেই পৌঁছে গেলাম ধর্মনগর। থাকা-খাওয়া একটি হোটেলে। আগে থেকে ব্যবস্থা ছিল। বিকেলে জলজ পত্রিকার অনুষ্ঠান। আমার তো ভালো লাগার কথা কারণ বাড়ি থেকে আগরতলা। সেখান থেকে রেলপথে ধর্মনগর। অনেক পরিচিত অপরিচিত লেখক বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল। যা হয়, আদর আলিঙ্গনে সাহিত্য অঙ্গন মেতে উঠলো। পরেরদিন সকালে ধর্মনগর থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি প্রাকৃতিক সবুজছায়া ঘেরা ঊনকোটিতে পৌঁছলাম। আমার সঙ্গে আমি নিজে। ঊনকোটি ভ্রমণ সারার পরে ফিরে এলাম দুপুরে ধর্মনগর। বিকেলে আবার সাহিত্য বাসর। আমার আলোচনা ছিল জীবনানন্দ। 


এবারে আমি আলোচনায় যাব ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক পরিবেশ নিয়ে। সাহিত্য সংস্কৃতির বাইরে পর্যটকদের হাতছানি দেয় এই অঞ্চল। পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায় এখানে এলে। শহর এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে ঘোরার মতো বেশ কিছু সুন্দর ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে।

রোয়া ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি (Rowa Wildlife Sanctuary): ছোট এই অভয়ারণ্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাইমেট দেখা যায়।


উনকোটি (Unakoti): প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্য এবং শিবের শিলা খোদাইয়ের জন্য বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান, যা ধর্মনগরের খুব কাছেই অবস্থিত।


জাম্পুই পাহাড় (Jampui Hills): কমলা বাগান, মনোরম জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এটি বিখ্যাত।


ধর্মনগর কালীবাড়ি: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ  মন্দির।


কৈলাসহর (Kailashahar) ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার চতুর্থ বৃহত্তম নগর এলাকা এবং উনকোটি জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর। এটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে উনকোটি পাহাড়ে ঘেরা এবং ত্রিপুরার দীর্ঘতম নদী মনুর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও মনোরম শহর। শহরটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য  দেওয়া যেতে পারে।

অমৃত মাইতি 


প্রধান আকর্ষণ: এই শহরের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হলো পার্শ্ববর্তী উনকোটি, যা পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা বিশাল পাথরের মূর্তি এবং প্রাচীন শৈব তীর্থের জন্য বিখ্যাত।


ভৌগোলিক অবস্থান: এটি উত্তর-পশ্চিম ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছে অবস্থিত।


ইতিহাস ও সংস্কৃতি: এটি ত্রিপুরার একটি অত্যন্ত প্রাচীন শহর, যা বহু শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। 


'ঊনকোটি' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক কোটির চেয়ে এক কম, অর্থাৎ নিরানব্বই লক্ষ নিরানব্বই হাজার নশো নিরানব্বই (৯৯,৯৯,৯৯৯)। 'ঊন' শব্দের অর্থ হলো 'কম'। এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত একটি বিখ্যাত শৈব তীর্থক্ষেত্রের নামও বটে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই স্থানে ঠিক এক কোটি দেবতার থেকে একটি কম মূর্তি পাথরে খোদাই করা রয়েছে বলে এর নাম 'ঊনকোটি'। 


স্থানীয় পৌরাণিক কাহিনি ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, ত্রিপুরার ঊনকোটি (Unakoti) পাহাড়ে অবস্থিত সবচাইতে দীর্ঘ বা প্রধান মূর্তিটি হলো 'উনকোটিশ্বর কালভৈরব'। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই কেন্দ্রীয় শিবের মাথার উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। এর সাথে থাকা মাথার ওপরের অলংকরণ বা পাগড়ির অংশটি আরও ১০ ফুট উঁচু। আপনি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবেন একেবারে খাড়া পাহাড়ের গায়ে কি করে এমন মূর্তি খোদাই  করা সম্ভব হয়েছিল। আপনি যদি ভ্রমণবিলাসী হয়ে থাকেন তাহলে ভারতের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় একটি ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরা, কিন্তু আপনাকে যা দেবে সারা জীবন মনে থাকবে।

____________________