নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝাড়গ্রাম: সমাজসেবী সংগঠন "'দিগন্তের দিশারী"-র ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের আই এম এ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো একটি মিলন উৎসব এবং গুনীজন ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভা। ঝাড়গ্রাম, …
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝাড়গ্রাম: সমাজসেবী সংগঠন "'দিগন্তের দিশারী"-র ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের আই এম এ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো একটি মিলন উৎসব এবং গুনীজন ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভা। ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, মালদা, নারায়ণগড়, গড়বেতা, কেশিয়াড়ী, বহড়াগোড়া, গোপীবল্লভপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২০ টির বেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ৩৫ জনেরও বেশি সমাজকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবর্ধিত করা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার ২০২৬ এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সান্তালি ও বাংলা মাধ্যমের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানাধিকারী ১২ জন সহ প্রায় ১৯ জন কৃতী ছাত্রছাত্রী।
এছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের চারজন দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে এবং কলা বিভাগের ৩ জন ছাত্র ছাত্রীকে একাদশ শ্রেণীর সমস্ত পাঠ্যবই উপহার স্বরূপ তুলে দেওয়া হয়েছিল এই অনুষ্ঠানে।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি ছিল রোহিনী ব্লকের তথা ঝাড়গ্রাম জেলার বিশিষ্ট প্রবীণ লোক সাহিত্যক প্রফুল্ল চন্দ্র মাহাত,প্রবীন সঙ্গীত শিল্পী নারায়ণ রায়চৌধুরী তথা বাবু রায় এবং ঝাড়গ্রামের অন্যতম শিল্পচর্চার কেন্দ্র "ART ACADEMY" র প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ সবার প্রিয় সঞ্জুদা ওরফে সঞ্জীব মিত্রকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন। পাশাপাশি উপস্থিত প্রতিটি সংগঠন ও সমাজকর্মীকে গাছ ও সন্মাননা স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
আর একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিশিষ্ট মানবদরদী মাননীয় কমল সিং মহাশয় উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ এক দরীদ্র মেধাবী ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ব তুলে নিলেন।
এছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশন, শ্রীরামপুর, ঝাড়গ্রামের স্বামীজী মুক্তেশ্বর মহারাজ, মাননীয়া শিক্ষিকা, কবি ও নাট্যকার দেবলীনা দাসগুপ্ত পাল মহাশয়া, বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা কুন্তল পাল মহাশয়, কবি তপন দে মহাশয়, গাছবাবু গৌরসাধন দাস চক্রবর্তী মহাশয়, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী ও অধ্যাপক ডঃ হ্যাপি দাস মহাশয়, ঝাড়গ্রামের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ প্রণব মজুমদার, ডাঃ মৌসুমী মুর্ম্মু, ডাঃ পরিমল মাহাত,
মেদিনীপুর ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সম্পাদক জগদীশ মাইতি এবং বিশিষ্ট রক্তযোেদ্ধা তথা শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে এককথায় চাঁদের হাট বসেছিল মিলন উৎসব প্রাঙ্গণে।
বাবু রায়ের কন্ঠ সঙ্গীত , মুক্তাঙ্গনের নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য এবং নৃত্য-গুরু তাপস দে ওরফে গতির একক নৃত্য, দুই ক্ষুদে শিল্পী শ্রীনিকা ও অংশুপের আবৃত্তিতে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়েছিল ওই মিলন উৎসবের অঙ্গনে।
সংগঠনের সভাপতি অঞ্জন জানা অনুষ্ঠান শেষে 'দিগন্তের দিশারী'র প্রতিটি সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি উপস্থিত সমস্ত সমাজবন্ধুদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অঞ্জনবাবুর কথায় 'দিগন্তের দিশারী'র প্রতিটি সদস্য, সদস্যা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ত্যাগ, ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ সংগ্রামের ফলেই "দিগন্তের দিশারী" এই ৫বছরের সফল কর্মময় যাত্রা সম্পূর্ণ করতে পেরেছে।



