Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

চে গেভারা কেন বিখ্যাত/ অমৃত মাইতি

এর্নেস্তো চে গেভারা (১৪ জুন, ১৯২৮ – ৯ অক্টোবর, ১৯৬৭) ছিলেন একজন আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব।
১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জ…

 


এর্নেস্তো চে গেভারা (১৪ জুন, ১৯২৮ – ৯ অক্টোবর, ১৯৬৭) ছিলেন একজন আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব।


১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি。চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সময় সারা লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করে মানুষের চরম দারিদ্র্য ও শোষণ দেখে তিনি বিপ্লবের দিকে ঝুঁকে পড়েন。পরে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে মিলে কিউবার বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।


প্রথম জীবন ও ভ্রমণ:

জন্ম: ১৪ জুন ১৯২৮, রোজারিও, আর্জেন্টিনা。

শিক্ষা: বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন।


সাউথ আমেরিকা ভ্রমণ: মোটর সাইকেলে ও হেঁটে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ান। এই ভ্রমণ তাঁর চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে এবং তিনি বুঝতে পারেন একমাত্র সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই এই অঞ্চলের inequalities বা বৈষম্য দূর করতে পারে।


সাক্ষাৎ: ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং তিনি কিউবার '২৬ জুলাই আন্দোলন'-এ যোগ দেন।


গেরিলা যুদ্ধ: বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে গেরিলা যুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


বিজয়: ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লব সফল হয় এবং বাতিস্তার পতন ঘটে। কিউবা সরকার ও আন্তর্জাতিক তৎপরতায় তিনি কিউবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক অফ কিউবার প্রেসিডেন্ট এবং শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কারণে তিনি বিশ্বে সমাজতন্ত্রের প্রসারে কাজ করেন এবং ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘে কিউবার প্রতিনিধিত্ব করেন।


১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কিউবার দায়িত্ব ছেড়ে তিনি কঙ্গো এবং পরবর্তীতে বলিভিয়ায় গেরিলা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পাড়ি জমান।


মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

মৃত্যু: ৯ অক্টোবর ১৯৬৭, বলিভিয়ার লা হিগুয়েরা গ্রামে সিআইএ (CIA) সমর্থিত বলিভিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন।


স্মৃতি: তাঁর অদম্য সাহস ও আদর্শের কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে তারুণ্যের বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর বিখ্যাত প্রতিকৃতিটি ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত আইকন।


চে গেভারার বিপ্লবী জীবনের আলোকে নিজেকে বিশ্লেষণ। কয়েক বছর আগে আমি লিখেছিলাম "আমি কমিউনিস্ট হতে পারিনি"। আমার সুদীর্ঘ বামপন্থী রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আমার ঘনিষ্ঠ অকৃত্রিম ভালবাসার বন্ধুরা সদর্থক উচ্চারণ করেছিলেন ,এখনো করেন। আমরা যখন দেখি কার্ল মার্কস অ্যাঙ্গেলস লেনিন মাওসেতুং হো চি মিন ফিদেল কাস্ত্রো চে গেভারা এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে সৌভাগ্য হয়েছিল যে দুজন আন্দামানের সেলুলার জেল থেকে ফিরে আসা দুজন বিপ্লবী সুকুমার সেনগুপ্ত এবং ভুপাল পান্ডা সহ ত্রিদিব চৌধুরী মাখন পাল এবং আরো অনেক। অন্তত শতাধিক বিপ্লবীর সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক হয়েছিল। তাদের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে তাদের কাছাকাছি যাওয়ার মানুষ হিসাবে কোনদিনই স্পর্ধা দেখাতে পারব না। তাঁরা যে ধরনের বিপ্লবী সেই অবস্থানে যাওয়ার মত সৌভাগ্য কোনদিনই হবে না আমার। তাঁদের কর্মময় জীবন ছিল দুঃসাহসিক রোমান্টিক ঝুঁকিবহুল অনুপ্রেরণামূলক। তাই লিখেছিলাম সুদীর্ঘ সময় ধরে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে থাকলেও নিজেকে একজন কমিউনিস্ট হিসেবে দাবি করতে পারব না। একজন কর্মী জীবনের দাবি অবশ্যই করতে পারি। যেমন সমুদ্রে নামতে পারিনি কোনক্রমে তীরে এসে দাঁড়িয়েছি। হ্যাঁ একাধিকবার একাধিক জেলে কাটিয়েছি। গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়া, এটা বহু মানুষই আমার মত করেছেন। কিন্তু নিজেকে অন্যান্যদের মতো কথায় কথায় কমিউনিস্ট হিসাবে বুক ফুলিয়ে বলার মত কাজ করতে পারিনি। নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা করেছি। একজন নিঃস্ব প্রান্তিক মানুষের মতো জীবনকে ভালোবেসেছি। পাশাপাশি সামাজিক গঠনমূলক বহু কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি। যে মাটিতে জন্মেছি সেই মাটির ঋণ শোধ করার চেষ্টা করেছি। বহু প্রলোভন উপেক্ষা করেছি।


১৯৬৬ সালে লাল ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে পথ চলতে শুরু করি। আজও আদর্শচ্যুত হই নি। ৭০ দশক বছর দুয়েক স্কুলে মাস্টারি করলেও বিপ্লব হবে এই বিশ্বাস নিয়ে সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে গেলাম। চাকরি ছেড়ে দিলাম। কর্মী জীবন সাংগঠনিক জীবন এবং অতি সাধারণ দরিদ্র মানুষের মধ্যে নেতৃত্বের জীবন আমার খুব প্রিয় ছিল। দায়িত্ব নেওয়া লড়াই সংগ্রাম অজস্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে, চাওয়া-পাওয়ার রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে সানন্দে কাটিয়েছি। ৩৪ বছরের আগে পরে ব্যক্তি জীবনের কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। চেয়েছিলাম বিপ্লবী হতে। আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেও দেখেছি বিপ্লবী হওয়া অত সহজ নয়। 


নিজের মনের ভেতরেই জন্ম নেয় সাম্যবাদী চিন্তাধারা। কমিউনিস্ট হওয়া অত সহজ নয়।

বাস্তবের মাটিতে পা দিয়ে পরা বাস্তবতায় পা দেওয়া ভীষণ স্বভাব নিজের মধ্যে ছিল। তাই ভাবুক মন পরিচালিত করেছে নিজের কর্মসূচির মধ্যে।

      

একজন ভাবুক মানুষ হলেন তিনি, যিনি জীবনের সাধারণ ঘটনা ও পরিবেশের গভীরে প্রবেশ করতে ভালোবাসেন। চারপাশের জগত, মানুষের আচরণ এবং অস্তিত্বের অর্থ নিয়ে তারা নিরন্তর বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করেন।


তারা সাধারণত এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অধিকারী হন।

গভীর পর্যবেক্ষণ: কোনো কিছুকে শুধু ওপর থেকে না দেখে, তার পেছনের কারণ নিয়ে ভাবেন।

সৃজনশীলতা ও কল্পনা: তাদের মস্তিষ্কে সবসময় নতুন চিন্তা বা ধারণার জাল বোনা হতে থাকে।

সহানুভূতিশীল: অন্যের আবেগ ও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বুঝতে পারেন।

একাকীত্ব প্রিয়: নিজের চিন্তায় ডুবে থাকার জন্য তারা কিছুটা নির্জনতা পছন্দ করেন।

দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি: জীবনের ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ের পেছনেই তারা কোনো না কোনো অর্থ খুঁজে পান। বিশ্বাসের এবং সম্ভাবনার দর্শনই পাথেয় এই বিশ্বাস এই বদ্ধমূল ধারণা আমার আছে।


বিশ্বের বিপ্লবীদের আইকন চে গেভারার জন্মদিনে আমার সশ্রদ্ধ নিবেদন এখানেই শেষ করলাম।

___________________________________________