রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ভাগ্যবদল হল না ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম)-এর চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের। নতুন সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেটে তাঁদের বেতন বৃদ্ধির কোনও ঘোষণা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে কর্মী মহলে। এরই প্রতিবাদে…
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ভাগ্যবদল হল না ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম)-এর চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের। নতুন সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেটে তাঁদের বেতন বৃদ্ধির কোনও ঘোষণা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে কর্মী মহলে। এরই প্রতিবাদে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (সিএমওএইচ) দফতরের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখালেন জেলার স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরে তাঁদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয় সিএমওএইচ-এর কাছে।
স্থানীয় ও আন্দোলনকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁচটি পুরসভা এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন এনএইচএম কর্মী ও চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে প্রথম সারির স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে আসছেন। তাঁদের অনেকেরই কাজের মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কর্মীদের আশা ছিল, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং বেতন কাঠামোয় সদর্থক বদল আনা হবে। কিন্তু সম্প্রতি ঘোষিত রাজ্য বাজেটে পুরসভা ও এনএইচএম কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির কোনও উল্লেখ না থাকায় চরম হতাশায় ডুবেছেন তাঁরা।
এক আন্দোলনকারী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন
"আমরা বিগত ১০-১৫ বছর ধরে যৎসামান্য বেতনে দিনরাত এক করে পুর এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে আসছি। সরকার বদলালেও আমাদের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন হল না। বাধ্য হয়েই আমাদের আজ আন্দোলনে নামতে হয়েছে।"
নতুন রাজ্য বাজেটে পুরসভা, এনএইচএম কর্মী এবং চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোয় কোন রকম বৃদ্ধি না করা।
দীর্ঘ ১০-১৫ বছর কাজ করার পরেও চাকরি স্থায়ীকরণ বা সম্মানজনক বেতন বৃদ্ধি না হওয়া।
বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বেতনে সংসার চালাতে গিয়ে তীব্র হিমশিম খাওয়া।
এ দিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে স্বাস্থ্যকর্মীরা তমলুকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে জড়ো হন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর, আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে একটি স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন জমা দেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আন্দোলনকারীদের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাঁদের দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে দ্রুত কোনও সমাধান না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
