Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মহিষাদল রাজবাড়ির প্রশংসনীয় উদ্যোগ: গাছ বাঁচাতে ‘বিজ্ঞাপন মুক্ত জোন’ ঘোষণা

অরুণ কুমার সাউ, মহিষাদল:  শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল মহিষাদল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। রাজবাড়ি চত্বরের শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলিকে অকালমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে গোটা এলাক…


অরুণ কুমার সাউ, মহিষাদল:  শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল মহিষাদল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। রাজবাড়ি চত্বরের শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলিকে অকালমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে গোটা এলাকাকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন মুক্ত জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। মহিষাদল রাজবাড়ি চত্বরে রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরনো বেশ কিছু মূল্যবান গাছ। রাজবাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে বছরভর এখানে প্রচুর পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছিল কিছু স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ী। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাজবাড়ি সংলগ্ন গাছগুলিতে নির্মমভাবে পেরেক ঠুকে লাগানো হচ্ছিল বড় বড় বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং ও ফ্লেক্স।লোহার পেরেকের আঘাতে বর্ষায় সৃষ্টি হয় গাছের গায়ে ক্ষত। এর পরিমাণ বছর বছর বাড়তে থাকে।ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গাছ মারা গেছে এবং কিছু গাছ ভেঙে পড়েছে। গাছের এই অকালমৃত্যু রুখতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ পরিবার।মহিষাদল রাজবাড়ির নিজস্ব উদ্যোগে ইতিমধ্যেই গাছগুলি থেকে সমস্ত হোর্ডিং এবং ফ্লেক্স খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সমগ্র মহিষাদল রাজগড় এলাকাকে সম্পূর্ণ ‘বিজ্ঞাপন মুক্ত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে রাজগড় সংলগ্ন এলাকায় গাছের ক্ষতি করে আর কোনো রকম বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করে কেউ যদি পুনরায় বিজ্ঞাপন লাগানোর চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে নিজে উপস্থিত ছিলেন রাজ পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য রুদ্রপ্রসাদ গর্গ। তাঁর উপস্থিতিতেই ফ্লেক্স ও হোর্ডিং খোলার কাজটি তদারকি করা হয়।ইতিহাস প্রসিদ্ধ মহিষাদলের রথের মেলা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এই ঐতিহ্যবাহী মেলার ঠিক মুখে রাজ পরিবারের এমন পরিবেশবান্ধব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমী মহল। এই উদ্যোগ মহিষাদলের ঐতিহাসিক পরিবেশকে যেমন কলুষমুক্ত করবে, তেমনই শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলিকেও দীর্ঘায়ু দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।