অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি নাম। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথ…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি নাম। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুজিত রায়। গতকাল গভীর রাতে কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকা থেকে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শনিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে তমলুক জেলা আদালতে পেশ করা হলে আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।শনিবার দুপুরে সুজিত রায়কে যখন পাঁশকুড়া থানা থেকে পুলিশি গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন বাইরে জমা হওয়া ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এই চরম উত্তেজনার মাঝে ক্ষোভের মুখে পড়েন এক মহিলা আইনজীবীও। উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় এবং অভিযোগ যে, তাঁকে লক্ষ্য করেও একাধিক ডিম ছোড়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের একটি পুরোনো মামলা এবং সম্প্রতি এক অভিযোগকারিণীর বয়ান বদল। ২০২১ সালে মানোয়ারা বিবি নামে এক মহিলা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সহ-সভাপতি (মৃত) কুরবান শা-এর দাদা আফজাল শা এবং ইমরান আলীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।তবে গত ১৭ই জুন ওই মহিলা আচমকাই পাঁশকুড়া থানায় পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নতুন অভিযোগে তিনি দাবি করেন ২০২১ সালে রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকাল থাকায় তাঁকে বন্দুক দেখিয়ে ও ভয় দেখিয়ে আফজাল শা-দের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মিথ্যে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই সম্পূর্ণ চক্রান্তের মূল কারিগর ছিলেন তৃণমূল নেতা সুজিত রায় ও নবিকুল ইসলাম।
মহিলার এই নতুন বয়ান ও অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তৎপর হয় এবং তদন্তে নেমে গতকাল গভীর রাতে কলকাতা থেকে সুজিত রায়কে গ্রেফতার করে। এদিকে আদালতে তোলার আগে সুজিত রায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাকে সম্পূর্ণ মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই ধরণের গ্রেফতারির ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই মামলার পরবর্তী তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
