অরুণ কুমার সাউ,মহিষাদল: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হিজলী টাইডাল ক্যানাল সংস্কারের কাজ শুরু হলো। দীর্ঘদিন ধরে মজে যাওয়া এই ক্যানালটি সংস্কারের দাবিতে সরব ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা…
অরুণ কুমার সাউ,মহিষাদল: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হিজলী টাইডাল ক্যানাল সংস্কারের কাজ শুরু হলো। দীর্ঘদিন ধরে মজে যাওয়া এই ক্যানালটি সংস্কারের দাবিতে সরব ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্কার কাজের সূচনা হওয়ায় খুশির হাওয়া মহিষাদল জুড়ে।এই হিজলী টাইডাল ক্যানালের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু ইতিহাস ও মণীষীদের স্মৃতি।কলকাতা থেকে নৌপথে ওড়িশা যাওয়ার সময় কবিগুরু এই ক্যানাল পথটিই ব্যবহার করেছিলেন।
১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী অবিভক্ত মেদিনীপুরে এসে মহিষাদলে রাত্রিবাস করেন। এরপর এই হিজলী টাইডাল ক্যানাল দিয়েই নৌকায় চড়ে তিনি কাঁথির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।একসময় এই ক্যানাল পথেই চলত জেলার বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য।দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ক্যানালটি কচুরিপানা ও নোংরা আবর্জনায় বুজে গিয়েছিল। পাশাপাশি, ক্যানালের দু’পাশে অবৈধভাবে বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গড়ে ওঠায় জলের স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ হচ্ছিল।রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকারের হাত ধরে এবার এই ঐতিহাসিক ক্যানাল পুনরুজ্জীবনের কাজ শুরু হলো।প্রথম দফার বরাদ্দ হয়েছে ১৭ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার সংস্কার হবে।২৬ জুন শুক্রবার মহিষাদলের সতীশচন্দ্র সামন্ত হল্ট স্টেশনের কাছ থেকে কাজের সূচনা করেন স্থানীয় বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা।বিধায়ক জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো ১৪ কিলোমিটার ক্যানাল সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।এই ক্যানালের জলের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল প্রায় আট-দশটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। এলাকার কৃষিকাজ যেমন এই জলের ওপর নির্ভরশীল, তেমনই ক্যানালের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু স্বনির্ভর মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ প্রকাশ করে জানান "ক্যানেলটি সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে। আমরা পুরোপুরি চাষবাসের ওপর নির্ভরশীল। ক্যানেলে জল থাকলে চাষের কাজ অনেক সুবিধা হবে এবং আমাদের সংসার চালাতে আর কষ্ট হবে না।"


