একটি পরামর্শ/অমৃত মাইতিআগামী দিনটি খারাপ হবে তাই বলে আজকের দিন নষ্ট করবো কেন! আগামী দিনের সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতি বা উদ্বেগের কথা ভেবে আজকের দিনটিকে নষ্ট না করা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বাস্তবসম্মত একটি চিন্তাধারা। কিন্তু চিন্তা তো হ…
একটি পরামর্শ/অমৃত মাইতি
আগামী দিনটি খারাপ হবে তাই বলে আজকের দিন নষ্ট করবো কেন! আগামী দিনের সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতি বা উদ্বেগের কথা ভেবে আজকের দিনটিকে নষ্ট না করা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বাস্তবসম্মত একটি চিন্তাধারা। কিন্তু চিন্তা তো হবেই। অথচ বর্তমান মুহূর্তকে কাজে লাগানোর এই মানসিকতা আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা দুটোই ভালো রাখে।
আজকের দিনটি সুন্দর ও কার্যকর রাখতে
ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে, আজকের কাজগুলো মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করা উচিত।।ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। বড় কোনো বিষয়ের চাপ না নিয়ে, আজকের দিনের জন্য ছোট ও সহজ লক্ষ্য ঠিক করুন। এতে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। মানসিক চাপ কমবে। যোগব্যায়াম, ধ্যান (Meditation) বা নিজের পছন্দের কোনো শখ যেমন বই পড়া বা গান শোনার জন্য কিছুটা সময় বের করুন।
সব সময় ইতিবাচক থাকুন। নিজের ক্ষমতা ও ইতিবাচক দিকগুলোর ওপর ভরসা রাখুন, যা আপনাকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে। আপনি যদি আপনার আজকের কাজগুলো গোছাতে চান বা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে পরিকল্পনা করতে চান, তাহলে একটি কার্যকর রুটিন বা তালিকা তৈরি করতে পারেন। আগামীকালের কথা না ভেবে , এভাবেই আজকের দিনের কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন।
এমনও তো হতে পারে আজকের দিনটির সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে আগামীকালের দিনটি আপনার কাছে মূল্যবান হয়ে উঠবে। তাই একেবারেই দুশ্চিন্তার বাড়াবাড়ি নয়। কাজের মধ্যে থাকুন । দেখবেন আজকেই হয়তো বড় সাফল্য আপনার জীবনে চলে আসতে পারে।
____________________________________________
বীজ পুঁতুন আর ফলের জন্য অপেক্ষা করুন/ অমৃত মাইতি
বীজ পুঁতলেই সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায় না। অপেক্ষা করতে হয়। কারণ এটি একটি প্রক্রিয়া।
"আজ বীজ পুঁতুন কালকেই ফল পাবেন না- এটি মূলত একটি প্রবাদ, যা দিয়ে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং সঠিক বিনিয়োগের গুরুত্ব বোঝানো হয়।
প্রকৃতির নিয়মে কোনো ফলের গাছই একদিনে বড় হয়ে ফল দেয় না। তবে আপনি যদি দ্রুত ফলনশীল কিছু গাছ বা সবজি লাগাতে চান, তবে
দ্রুত বর্ধনশীল সবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক, এবং ধনে পাতা বীজ বোনার মাত্র ১৫-৩০ দিনের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়।
বীজ থেকে মাত্র ৭-১৪ দিনের মধ্যে ছোট চারা বের হয়, যা রান্নায় পুষ্টিকর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়।দ্রুত ফলনশীল গাছ: পেঁপে, পেয়ারা এবং লেবুজাতীয় গাছ দ্রুত ফল দেয়। এগুলোর চারা বসালে ১ থেকে ২ বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব।
আমি কিন্তু রূপক অর্থে ব্যবহার করছি। আজকে আপনার নেওয়া কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত, সময়োপযোগী শিক্ষা বা ছোট সঞ্চয় ভবিষ্যতে আপনাকে বড় সাফল্য (ফল) এনে দিতে পারে।
আপনি কি ঘরের ভেতরে টবে গাছ লাগাতে চান, নাকি বাড়ির বাইরের বাগানে? এছাড়া আপনার লক্ষ্য কি ফুল/ফল পাওয়া নাকি তাজা শাকসবজি? ফুল ফল চাষিদের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনি উদ্যোগ নিতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে আমার কিছু অন্তর্নিহিত বক্তব্য বা পরামর্শ আছে।
(১) আপনার সন্তানের জন্য আজকের বই কিনুন মাস্টার নিয়োগ করুন। আপনাকে ধৈর্য ধরে নজরদারি করে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে সন্তানকে সুশিক্ষিত করার জন্য। এটি একটি পদ্ধতি। সঙ্গে সঙ্গে এর ফল পাওয়া যায় না।
(২) একজন সমাজকর্মী তার চোখে সমাজের অনেক কিছু ধরা পড়ে। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ তার বিবেচনা শক্তি দিয়ে সে বুঝতে পারে। তার সামনে এই সমাজে অনেক নীতি আদর্শ রয়েছে। তিনি যেটি সঠিক মনে করবেন সেই দলে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। এবং মানুষকে মটিভেটেড করবেন। এই কাজও একদিনে হবে না। তার কারণ সব মানুষ শিক্ষিত নয়। বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত মূর্খ এবং বিদ্যা শিক্ষার সবটাই তাদের অপ্রতুল। বেশিরভাগ মানুষ যা দেখে তাই করে। বিবেচনা করে কাজ করতে পারেনা। তারা গড্ডালিকা প্রবাহের মত। স্রোতে ভেসে যেতে ভালোবাসে। স্রোতের বিরুদ্ধে তারা সাঁতার কাটতে ভয় পায়। তাই সমাজের কোন অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা কথা বলতে পারেনা। এই সমস্ত অজ্ঞতার সমাজে থাকে বলেই উপর তলার মানুষরা নিচের তলার মানুষকে ঠকাতে পারে।
আপনি যদি কোন আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণ করেন আপনাকে ধীরে স্থির ভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে অপেক্ষা করতেই হবে আত্মবিশ্বাসে ভর দিয়ে।
(৩) শরীরচর্চা খেলাধুলার ক্ষেত্রেও আপনাকে ধীরে ধীরে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একদিন উত্তীর্ণ হতে হবে। আজকে মাঠে নামলেই আজকেই আপনি ভালো খেলোয়াড় হতে পারবেন না। তার জন্য ধৈর্য চাই অনুশীলন চাই।
(৪) জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেই হোক লেখাপড়ার ক্ষেত্রেই হোক আপনি কখন উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠবেন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না। আপনার মধ্যে যেন দূর্বুদ্ধি না চেপে বসে শুরু করার সাথে সাথে সাফল্য অর্জন করতে পারা যায় কিনা তার চেষ্টা। বরং বলবো আপনার মধ্যে যেন সুবুদ্ধি জাগ্রত হয় ধীরে ধীরে পা ফেলুন , সময় আপনাকে পৌঁছে দিবে সাফল্যের দোরগোড়ায়।
(৫) জনগণের মধ্যে কাজ করাকে একটা অভ্যাস ও নিষ্ঠাতে পরিণত করুন। দেখবেন একটা সময় মানুষের অনুরাগ ও বিশ্বাস আপনি অর্জন করতে পারছেন। তখন আপনি এক অপরিসীম আনন্দ খুঁজে পাবেন যার কোন অর্থ মূল্য হবে না।
(৬) আপনার নিষ্ঠা এবং অভ্যেস উল্লেখযোগ্য সাফল্যকে হাতছানি দিচ্ছে। আপনি তখন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবেন।
(৭) বড় কিছু পাওয়ার জন্য অনেক ছোটখাটো বিষয়কে এড়িয়ে যেতে হয়। আপনি ছোটখাটো বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হলে বড় জায়গায় পৌঁছতে পারবেন না।
(৮) আপনাকে বিভ্রান্ত করার মত অনেক কিছু আপনার জীবনে চলার পথে এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে। আপনার কিন্তু অন্যমনস্ক হওয়া চলবে না, কারণ আপনার লক্ষ্য এবং আদর্শ স্থির।
কোনরকম অস্থিরতা আপনাকে যেন বিভ্রান্ত না করে। সাময়িক কোনো ছোটখাটো সাফল্য আপনার জন্য নয়। আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে অনেক বড় সাফল্যের দিকে।
(৯) আপনার চলার পথে খানাখন্দ আছে। এলোপাথাড়ি ভুলভুলাইয়া পথ আছে। আপনি একজন দেশের সচেতন নাগরিক। আপনার বিবেচনা শক্তি যেন প্রখর হয়।
(১০) আপনার পথে ভয়ংকর ঝড় আছে ক্ষুধা আছে, তৃষ্ণা আছে আগুনও আছে। তবু আপনার হতাশা নাই। আছে শুধু সাফল্যের সম্ভাবনা। আর মনে রাখতে হবে সাফল্যের প্রাক মুহূর্তে আপনি যেন হাল ছেড়ে না দেন। সামান্য একটু এগুলিই আপনার সাফল্য আপনার অপেক্ষায় আছে।
একটা কথা আছে, কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাও। কাজ করা আপনার অধিকার।কাজ করে যান ফলের আশা করবেন না।"কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন। মা কর্মফলহেতুভূমা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি।"গীতার এই শ্লোকের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত নই। আমরা শস্যের উৎপাদনের জন্যই এবং ভোগের জন্যই বীজ পুঁতি, চাষ করি।
বীজ বপন করা বা কাজ করে যাওয়া আমার যেমন অধিকার তেমনি ফসলের উপরও আমার অধিকার থাকবেই। গাছ লাগাই ছায়া দেয় অক্সিজেন দেয় ফুল ফল পাখির বাসা সবই দেয়। এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক আছে। বাগানে ফুল ফোটে বলেই বাগান করি। না হলে কেউ বাগান করবে না। তাই"মা ফলেসু কদাচন"এই উচ্চারণের সঙ্গে আমি একমত নই। কাজ আমাদের করতে হবে ফলের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

