Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

নিজের বেদনা নিজেকেই বুঝতে দিই না/অমৃত মাইতি

নিজের বেদনা নিজেকেই বুঝতে দিই না/অমৃত মাইতি বেদনা চেপে রাখা বা নিজেকে তা বুঝতে না দেওয়া এক ধরণের মানসিক সুরক্ষাবলয় (defense mechanism), যা মানুষ অবচেতনভাবেই কঠিন সময় পার করার জন্য তৈরি করে। তবে এই অনুভূতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি  মানসি…


 নিজের বেদনা নিজেকেই বুঝতে দিই না/অমৃত মাইতি 

বেদনা চেপে রাখা বা নিজেকে তা বুঝতে না দেওয়া এক ধরণের মানসিক সুরক্ষাবলয় (defense mechanism), যা মানুষ অবচেতনভাবেই কঠিন সময় পার করার জন্য তৈরি করে। তবে এই অনুভূতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি  মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের মানসিক অবস্থা জেনেও এবং উপলব্ধি করতে পারা সত্বেও এই একই বলয়ের মধ্যে আবর্তিত হওয়া খুবই বিপদজনক। হয়তো কোন অভিমানের কারণে পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে না চাওয়া । অভিমান এবং বেদনা উভয়কেই চেপে রাখার মধ্য দিয়ে নিজের যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করা।

তবে আমরা সচেতন মানুষ এবং এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখা উচিত হবে না।

অনুভূতিগুলো স্বীকার করতে হবে। বেদনা বা কষ্টকে দুর্বলতা ভাববেন না। নিজের সাথে সৎ হোন এবং মেনে নিন যে আপনার খারাপ লাগছে। এটি কষ্টের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

ডায়েরিতে লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলায় ছোট বড় সমস্ত রকমের কাজের রুটিন দিনের শেষে লিখে রাখতাম। মনের কথাগুলো কোনো কাগজে বা ডায়েরিতে লিখে ফেলুন। এটি চাপা পড়ে থাকা কষ্টগুলোকে মাথা থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে।

কাছের মানুষের সাথে কথা বলা দরকার। আপনার জীবনের এমন কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাথে কথা বলুন, যিনি আপনাকে বিচার না করে শুধু শুনবেন। এমন বন্ধু চাই যে আপনার কথাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন। আপনাকে আঘাত দেওয়ার জন্য অহেতুক প্রশ্ন করবে না। কিন্তু মানসিকভাবে কিভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সেটি কিন্তু তিনি বিবেচনা করবেন এবং সেভাবেই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। এমন একজন প্রকৃত বন্ধু প্রতিটি যন্ত্রণাকাতর হৃদয়ের পাশে থাকলেই ভালো। আপনাকেও চেষ্টা করতে হবে আপনার কষ্টগুলো যেন আপনাকে গুটিয়ে না থাকে। ভেতরে যা আছে থাক বাইরে আপনি থাকুন চটপটে, চনমনে। আপনি হয়তো নিজের দুর্বলতা বা সমস্যাগুলো অন্যের সামনে প্রকাশ করতে চান না। তবে এই নীরব যন্ত্রণা এক সময় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময়ের হাতে ছেড়ে দিন নিজেকে।

_______________________________________


 নিউটনের গতিসূত্র/ অমৃত মাইতি 

পদার্থবিজ্ঞানের জনক স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে তিনটি মৌলিক সূত্র প্রদান করেন। এই সূত্রগুলো চিরায়ত বলবিদ্যার ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।

১. নিউটনের প্রথম সূত্র (জড়তার সূত্র)

বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরল পথে চলতে থাকবে। অর্থাৎ, বস্তুর নিজের অবস্থান বা গতির অবস্থা বজায় রাখার ধর্মই হলো জড়তা।

২. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র

বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে, বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সে দিকে ঘটে।

৩. নিউটনের তৃতীয় সূত্র

প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। অর্থাৎ, একটি বস্তু অন্য কোনো বস্তুর উপর বল (ক্রিয়া) প্রয়োগ করলে, দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর উপর ঠিক সমপরিমাণ বল (প্রতিক্রিয়া) বিপরীত দিকে প্রয়োগ করবে। 

নিউটনের গতিসূত্রের গাণিতিক রূপ ও বাস্তব জীবনের উদাহরণগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য কোনো বস্তুর উপর বল (ক্রিয়া) প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর উপর সমান ও বিপরীতমুখী বল (প্রতিক্রিয়া) প্রয়োগ করে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য----

ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া/ বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন হয়, এদের একটিকে ক্রিয়া এবং অন্যটিকে প্রতিক্রিয়া বলা হয়।

 মান ও দিক/ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের মান সর্বদা সমান কিন্তু তাদের দিক সর্বদা বিপরীতমুখী হয়।

ভিন্ন বস্তু/এই বল দুটি সর্বদা দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর কাজ করে, কখনো একই বস্তুর উপর নয়।

বাস্তব জীবনের কিছু উদাহরণ:

পথে হাঁটা: আমরা যখন হাঁটি, তখন পা দিয়ে মাটিকে পিছনের দিকে ঠেলি (ক্রিয়া), এবং মাটিও আমাদের সামনের দিকে সমান বলে ঠেলে দেয় (প্রতিক্রিয়া), যার ফলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। 

নৌকা থেকে লাফানো,/ নৌকা থেকে পাড়ে লাফ দেওয়ার সময় আমরা নৌকাটিকে পিছনের দিকে ঠেলে দিই (ক্রিয়া), এর ফলে নৌকাটিও আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে দেয় (প্রতিক্রিয়া)। 

বন্দুক ছোঁড়া/বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ার সময়, গুলিটি সামনের দিকে বেরিয়ে যায় (ক্রিয়া) এবং তার ফলে বন্দুকটি কাঁধে পিছনের দিকে ধাক্কা দেয় (প্রতিক্রিয়া)। আমার নিজের রাইফেল শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। 

আপনি যদি কাউকে থাপ্পড় মারেন দেখবেন যাকে মারলেন তার তো লাগবেই সঙ্গে সঙ্গে আপনার হাতও জ্বালা করবে। 


আমরা যারা প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করি এবং এই সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের যাদের ধারণা আছে নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রটি নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারব।

পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় নিউটনের গতিসূত্রগুলোর প্রয়োগ কেবল পদার্থবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকে না; এগুলো সামাজিক গতিশীলতা, অর্থনীতিতত্ত্ব এবং বাজার বিশ্লেষণে রূপক বা তত্ত্ব হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

_________________________


 সম্পর্কের অনুভূতি /অমৃত মাইতি 


সম্পর্ক যতই ভালো হোক, দিনের শেষে একবার কিন্তু কথা বলা দরকার। আমার উপলব্ধি হল এই কথাটি একেবারে সত্যি। সম্পর্ক যতই মধুর হোক না কেন, প্রতিদিন অন্তত একবার একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বা খোঁজ নেওয়াটা সম্পর্কের বুনিয়াদকে আরও মজবুত করে। এটি শুধু ভালোবাসাই বাড়ায় না, বরং মনের দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতাও অটুট রাখে। নিবিড় সম্পর্কের মানুষরা যে সবসময় একসঙ্গে থাকে তা নয়। অনেক কারণে অনেক অনেক দূরে পরস্পরকে থাকতে হয়। এবং সবাইকেই ব্যস্ত থাকতে হয়। যত ব্যস্ততা থাকুক না কেন মানসিক সম্পর্ক ঠিকই থাকে। তাই দিনের শেষে অথবা রাত্রিতে শোয়ার আগে একবার অন্তত হ্যালো না বললে মনে শান্তি পাওয়া যায় না। মনে হয় দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন কথা বলার অর্থ হল যোগাযোগের উন্নতি সাধন। সারাদিনের ছোট-বড় ঘটনা বা অনুভূতির আদান-প্রদান হলে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকে না।

মানসিক শান্তি এখানে প্রধান বিষয়। প্রিয় মানুষের গলার স্বর শুনলে সারাদিনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ অনেকটাই দূর হয়ে যায়।

আপন হওয়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। নিয়মিত কথা বললে মনে হয়, আপনারা একে অপরের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সবসময় একে অপরের পাশে আছেন।

ভবিষ্যতের ভিত্তি দৃঢ় হয়।‌ ছোট ছোট কথা বলার অভ্যাস থেকেই একে অপরের প্রতি গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। 

অনেক সময় কাজের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন কথা বলার সময় বের  করা যায়  না। অথবা কী কথা বলবেন তা নিয়ে প্রায়ই দ্বিধায় পড়েন অনেকে। অনেক সময় আমরা পরস্পরের প্রতি অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি। তখন সমস্যা তৈরি হয়। সম্পর্কে ধীরে ধীরে ফাটল তৈরি হয়। তখন দিনের শেষে একবার হ্যালো বলার আর প্রয়োজন কেউ উপলব্ধি করে না। যদি পরস্পরের মধ্যে অভাব  অনুভূত না হয় তাহলে কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে ফাটল দেখা দেবে না কোনদিন। তখন কন্টাক্ট থাকবে কিন্তু কানেকশন থাকবে না। অর্থাৎ মানসিক সম্পর্কটা ধীরে ধীরে  জোলো হয়ে যাবে, হালকা হয়ে যাবে। 

কে কিভাবে সম্পর্ক নিবিড় করবে বা ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ককে রিপেয়ার করবে সেটা নিজস্ব বোধ বিবেচনা বুদ্ধির ব্যাপার। যদি কোনদিন সত্যি সময়ের অভাব হয় তাহলে পরের দিন অবশ্যই ভোরবেলা অন্তত একবার হ্যালো করে নিবেন। তাহলে আর ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। সঙ্গীর ব্যস্ততার কারণও উপলব্ধি করতে হবে। সঙ্গীর ছোটখাটো কাজ বা বিষয় অবহেলা করা যাবে না। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং শ্রদ্ধাবোধ যত নিবিড় হবে ততই সম্পর্ক অটুট থাকবে। পরস্পরের মধ্যে অভিমানকে খাটো করে দেখুন। অভিমান সরিয়ে কথা বলুন। দেখবেন সম্পর্কটা একটা আদর্শ সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। কোন কারনেই সম্পর্ককে হালকা করবেন না। সম্পর্ককে মর্যাদা দিন, মজবুত করে রাখুন। আনন্দধারা বয়ে যাবে দুজনের মধ্যে। যদি উভয়ের মধ্যে অন্তরের টান অনুভূত না হয় তাহলে সে সম্পর্ক রাখার কোন প্রয়োজন নাই। তবু বলব একজন মানবিক মানুষ সম্পর্ককেই শ্রদ্ধা করবে।

____________________________________________