Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ময়নার ফিসারিতে চলছে নির্বিচারে পাখি নিধন, ছাত্রদের তৎপরতায় মুক্তি পেল কয়েকটি শালিক পাখি

*অরুণ কুমার সাউ, ময়না:* মৎস্য চাষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না আজ সমগ্র রাজ্যে এক অনন্য মডেল। নীল বিপ্লবের জোয়ারে ময়নার এই সাফল্য যেমন প্রশংসনীয়, ঠিক তেমনই এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার চিত্র এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভি…


*অরুণ কুমার সাউ, ময়না:* মৎস্য চাষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না আজ সমগ্র রাজ্যে এক অনন্য মডেল। নীল বিপ্লবের জোয়ারে ময়নার এই সাফল্য যেমন প্রশংসনীয়, ঠিক তেমনই এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার চিত্র এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার একশ্রেণীর মৎস্যজীবী ও ফিসারি মালিকদের নিষ্ঠুরতার কারণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে শয়ে শয়ে পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিসারির মাছ বাঁচাতে ভেড়ি ও ঝিলের চারপাশে সূক্ষ্ম সুতোর জাল পেতে রাখা হচ্ছে। মাছ খেতে এসে সেই জালে জড়িয়ে ছটফট করে মারা যাচ্ছে বক, সারস, পানকৌড়ি, মাছরাঙা এবং ডাহুকের মতো জলচর পাখিরা। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত পাখি মাছ খায় না— যেমন কাঠঠোকরা, শালিক, ঘুঘু, মৌটুসি, ছাতার এবং হাঁড়িচাঁচাও বাদ যাচ্ছে না এই মরণফাঁদ থেকে।এখানেই শেষ নয়, পাখিদের মারতে চরম নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। মৌরলা বা পুঁটির মতো ছোট মাছে বিষ মিশিয়ে ফিসারির ধারে রেখে দেওয়া হচ্ছে, যা খেয়ে মারা যাচ্ছে বক ও পানকৌড়ির দল।

কোথাও আবার পাখি মারার বন্দুক ব্যবহার করেও নির্বিচারে শিকার চলছে।এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা। ফিসারি মালিকদের একাধিকবার পাখি না মারার জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম। মঙ্গলবার সকালে স্কুল শুরুর আগে স্থানীয় একটি স্কুলের একদল ছাত্র ফিসারির জাল থেকে বেশ কয়েকটি শালিক পাখিকে জীবন্ত উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেয়। শিক্ষক দিলীপ কুমার পাত্র, (পরিবেশপ্রেমী) "প্রকৃতিকে সুন্দর করে রাখে পাখি। এরা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করে। বহু পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। এভাবে নির্বিচারে পাখি নিধন চলতে থাকলে দ্রুত নষ্ট হবে প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল।

বিলুপ্ত হয়ে যাবে বহু বিরল প্রজাতির পাখি, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।ফসলের ওপর থেকে বিরূপ প্রভাব কাটাতে এবং প্রকৃতির বন্ধু পাখিদের রক্ষার্থে প্রশাসনের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শুধু প্রশাসন নয়, সমাজকেও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।"