Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ও-পজিটিভের বদলে এ-পজিটিভ! ভুল রক্ত দেওয়ার অভিযোগ তাম্রলিপ্ত মেডিক্যালে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে রোগী

পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভুল রক্ত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ও-পজিটিভ (O+) রক্তের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে এ-পজিটিভ (A+) রক্ত দেওয়া হয়। রক্ত দেওয়ার পরই রোগীর শারীরিক অবস্থার…


পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভুল রক্ত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ও-পজিটিভ (O+) রক্তের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে এ-পজিটিভ (A+) রক্ত দেওয়া হয়। রক্ত দেওয়ার পরই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন রোগীর স্বামী।

অভিযোগকারী দুলাল চন্দ্র গুঁড়ি, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার পূর্বদোবান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, প্রায় কুড়ি দিন আগে স্ত্রী মিনু বর্মন গুঁড়ির শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাঁকে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে ও-পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক রক্তের ব্যবস্থা করতে বললে তিনি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত এনে দেন। অভিযোগ, রোগীর ব্লাড গ্রুপ ও-পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এ-পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়। রক্ত শরীরে যেতেই রোগী তীব্র অস্বস্তি, জ্বর, যন্ত্রণা এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় কাতরাতে শুরু করেন। পরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পরও পুনরায় একই ভুল রক্ত দেওয়া হয়। এরপর রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হয়। গলায় তীব্র ব্যথা, পেটে যন্ত্রণা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ-সহ একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।


দুলাল চন্দ্র গুঁড়ি বলেন, প্রায় কুড়ি দিন আগে স্ত্রীর হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় ভর্তি করেছিলাম। তখন ও-পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ফের অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। রাতে রক্ত দেওয়ার পর থেকেই ওর শরীর খারাপ হতে থাকে। পরের দিন সকালে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখি এ-পজিটিভ রক্ত দেওয়া হচ্ছে। তখনই জানাই আমার স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ ও-পজিটিভ। তখন জানতে পারি আগের রাতেও এ-পজিটিভ রক্তই দেওয়া হয়েছিল। ব্লাড ব্যাঙ্ক বলছে হাসপাতাল ভুল লিখেছে, হাসপাতাল বলছে ব্লাড ব্যাঙ্কের ভুল। আমার স্ত্রীর যদি কোনও ক্ষতি হয়, তার সম্পূর্ণ দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
রোগীর আত্মীয়া চন্দনা বিজলী বলেন, অন্য গ্রুপের রক্ত দেওয়ার পর থেকেই রোগীর প্রস্রাবের সমস্যা, গলা ও পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। একটা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে? উল্টে কর্মীরা আমাদেরই প্রশ্ন করছেন, আমরা কেন দেখে রক্ত নিইনি।
তমলুক ভলেন্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শুকদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন এই ভুলের জন্য রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। খুবই উদ্বিগ্নের বিষয়।

ঘটনায় তাম্রলিপ্ত গভমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ