মনুষ্যত্বহীন মানুষ কখনো মানুষ নয়/অমৃত মাইতি
একদম সঠিক। বাইরের মানুষটাকে দেখা যায় কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে দেখা যায় না। ভিতরের মানুষটাই যদি মানবিকতায় ভরপুর হয়, তার অন্তরের সৌগন্ধই মানুষের মূল্যবোধের চেতনা। শুদ্ধ চেতনার উৎস মান…
মনুষ্যত্বহীন মানুষ কখনো মানুষ নয়/অমৃত মাইতি
একদম সঠিক। বাইরের মানুষটাকে দেখা যায় কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে দেখা যায় না। ভিতরের মানুষটাই যদি মানবিকতায় ভরপুর হয়, তার অন্তরের সৌগন্ধই মানুষের মূল্যবোধের চেতনা। শুদ্ধ চেতনার উৎস মানুষের হৃদয়। এখানেই মনুষ্যত্বের জন্ম। যার মধ্যে কোন মনুষ্যত্ব নেই সে আবার মানুষ হবে কি করে। কেবল শারীরিক অবয়বে মানুষ হলেই মানুষ হওয়া যায় না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি ও মনুষ্যত্ববোধ থাকা অত্যন্ত আবশ্যক।
মনুষ্যত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহানুভূতি ও ভালোবাসা। অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, সততা, ন্যায়বিচার এবং সঠিক-ভুল বিচারের ক্ষমতা মানুষের থাকতে হবে। কোন হিংসুটে মানুষ যে অন্যের ভালো দেখতে চায় না সেই মানুষ কখনো আবেগ অনুভূতিপ্রবন হতে পারে না। বিবেক বর্জিত মানুষ আর যাই হোক প্রকৃত মানুষ নয়।
যে মানুষের মধ্যে ক্ষমা ও সহনশীলতা বিদ্যমান এবং এসবই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়, সেই মানুষ নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে অন্যকে ক্ষমা করার মতো উদারতা দেখাতে পারে। তাই মানুষের মতো দেখলেই মানুষ বলা যায় না। তার মধ্যে যদি মনুষ্যত্ব থাকে তবেই তিনি প্রকৃত মানুষ।
মনুষ্যত্ব অর্জন করা সত্যিই কঠিন। অত্যন্ত কঠিন ও আজীবন সাধনার বিষয়। জন্মগতভাবে মানুষ হলেও, লোভ, স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতা জয় করে প্রকৃত মানবিক গুণাবলী (যেমন: সহানুভূতি, সততা, ক্ষমা ও পরোপকার) ধারণ করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, শিক্ষা ও নিরলস আত্মনিয়ন্ত্রণ। শিক্ষা এবং চেতনা মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, "মানুষের মৃত্যু আমাকে ততটা কষ্ট দেয় না, যতটা দেয় মনুষ্যত্বের মৃত্যু।" জীবসত্তার ঘর থেকে মানব সত্তার ঘরে উত্তরণের একমাত্র প্রধান সহায়ক শিক্ষা। এই শিক্ষা সমাজ থেকে, প্রকৃতি থেকে এবং মনীষীদের কাছ থেকে আমরা পেয়ে থাকি। পাশাপাশি নিজের বিবেচনা শক্তিকেও উন্নত করতে হবে। নিরপেক্ষ করতে হবে। পরোপকারিতার মনোবৃত্তি থেকেও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। এর একটি ভালো দিক হলো আমাদের মনের মন্দিরে মনুষ্যত্ব ও মানবিকতার বেদী রয়েছে যেখানে আমাদের প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে হয়।
________________________________________
শিশু ফুল ও পাখি /অমৃত মাইতি
যে মানুষ শিশু ফুল পাখি ভালোবাসে না, সে মানুষ নয় কোন এক হিংস্র জানোয়ার। একটি শিশুকে দেখলে মানুষ হাজার দুঃখ ভুলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তে হৃদয় জেগে ওঠে দয়া-মায়া প্রীতি ও ভালোবাসা। একটি ফুল তার সৌন্দর্য দিয়ে মানুষের নিষ্ঠুর মনেও সৌন্দর্য চেতনা তৈরি করে। সে ভুলে যায় পৃথিবীতে অসুন্দর বলে কিছু আছে। পাখির কুজন আমাদের মুগ্ধ করে, আবেগতাড়িত করে। শিশু ফুল পাখি একটি মানুষকে অপরাধমুক্ত করে। মানুষের প্রতি প্রকৃতির প্রতি শিশুর প্রতি তার মধ্যে এক মায়ার আবেগ তৈরি করে। সেই মানুষের মধ্যে এই পৃথিবীটা সুন্দর এবং তার কাছে অসুন্দর বলে কিছু নেই।
'শিশু, ফুল ও পাখি'—এই তিনটি বিষয় আমাদের সুন্দর প্রকৃতির প্রতীক। ফুল ও পাখির সাথে শিশুদের সম্পর্ক সবসময়ই গভীর এবং আনন্দদায়ক। শিশুদের সুন্দর প্রকৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু সহজ ও আকর্ষণীয় উপায় আছে।
শিশুদের আশেপাশের গাছে চড়ুই, শালিক প্রভৃতি বহু পরিচিত পাখিরও সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়া দরকার। সেই সব পাখির কলতান কর্ণকুহরে প্রবেশ করে এবং মনের মধ্যে নতুন নতুন সুরের উদ্ভাবন করে। তাদের আকার ও রঙের বিষয়ে শিশুদের কৌতূহলী করে তুলতে হবে। শিশুকে ফুল ও পাখির গল্প বলতে হবে। ফুল ও পাখির নাম দিয়ে শিশুদের বর্ণমালা শেখানো এবং বিভিন্ন পাখির ডাক শোনাতে হবে।
স্বামীহারা নারীর বেদনা ভুলানোর জন্য শিশু সন্তানকে কোলে দিয়ে অবলম্বন সম্পর্কে এক মায়া তৈরি করা যায়। শিশু উৎসবে গিয়ে দেখেছি মুহূর্তের মধ্যে সব ব্যথা বেদনা যন্ত্রনা ভুলে গেছি। শিশুরা যে জাতির ভবিষ্যৎ এই বোধ আমাদের মধ্যে জেগে উঠে। শিশুদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের কারণেই তাদেরকে সুনাগরিক করে গড়ে তোলার প্রবণতা আমাদের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
কোনো বাচ্চা পাখি যদি বাসা থেকে মাটিতে পড়ে যায়, তবে তাকে নিজে লালন-পালন না করে বিভাগিয় নির্দেশিকা অনুযায়ী তাকে নিরাপদ স্থানে রাখা এবং সুস্থ করে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। একটি অসহায় পক্ষীশাবকের প্রতি শিশুর মনেও অন্তরবেদনা তৈরি হয়। শিশু ফুল ও পাখি আমাদের অন্তরের মধ্যে এক নম্র সুন্দর সবুজ চেতনার বিকাশ ঘটায়। এবং এ কারণেই অনুভূতি প্রবণ মানুষ নিজেকে উন্নত চেতনায় নিয়ে যেতে পারে।
_________________________________

