কাজল মাইতি, দেশ মানুষ :চাল চালছে এক খুদে, আর উল্টো দিকের চেয়ারে বসে হাসিমুখে জেলার পুলিশ সুপার! মঙ্গলবার এমনই এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী রইল তাম্রলিপ্ত নগরী। পুলিশের সম্পর্কে থাকা পুরনো ভীতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের …
কাজল মাইতি, দেশ মানুষ :
চাল চালছে এক খুদে, আর উল্টো দিকের চেয়ারে বসে হাসিমুখে জেলার পুলিশ সুপার! মঙ্গলবার এমনই এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী রইল তাম্রলিপ্ত নগরী। পুলিশের সম্পর্কে থাকা পুরনো ভীতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের সেতু তৈরি করতে এবং খুদেদের মগজের ক্ষুরধার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে ও জেলা দাবা সংস্থার সহযোগিতায় মঙ্গলবার জেলা পুলিশ লাইনে আয়োজিত হয় একদিনের আন্তজেলা দাবা প্রতিযোগিতা। অনূর্ধ্ব-১৩ এবং অনূর্ধ্ব-১৯— মূলত এই দুই বিভাগে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল।
দাবার বোর্ডে শুধু ছোটরাই নয়, চাল দিতে দেখা যায় জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাকে নিজে। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল মণ্ডল-সহ অন্যান্য শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৩ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অনির্বাণ সাহু এবং মেয়েদের বিভাগে সেরা শুভান্দ্রী মাইতি। অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিয়েছে অনির্বাণ মণ্ডল এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে লাবণ্য মাইতি। খেলা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের হাতেই ট্রফি, শংসাপত্র ও বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর আগে জেলা পুলিশের তরফে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের জন্মজয়ন্তীও একইভাবে উদ্যাপন করা হয়েছিল।
এ দিনের আয়োজনের সাফল্য নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বরাবরই শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় এগিয়ে। খুদে পড়ুয়াদের এই বিপুল সাড়া আমাদের সত্যিই অভিভূত করেছে। ছোটদের মাধ্যমেই পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলানো সম্ভব। পুলিশের প্রতি অহেতুক ভয় দূর করে আমরা যে সব সময় ওদের পাশেই আছি, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছি।” আগামী দিনেও এই ধরণের কর্মসূচি বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের আশা, এই প্রতিভাবান খুদে দাবাড়ুরা আগামী দিনে শুধু জেলা নয়, রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

