Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

সবুজ-মেরুন রঙে সেজে উঠেছে মোহনবাগান সমর্থক অতনুর 'আবেগের বাড়ি

অরুণ কুমার সাউ, মুরাদপুর: ইট-কাঠ-পাথরের চার দেওয়ালেই যে শুধু বসতবাড়ি গড়ে ওঠে না, ভালোবাসা আর আবেগ মিশলে তা যে স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে—তারই এক অনন্য নিদর্শন মিলল পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। ২৯ জুলাই 'মোহনবাগান দিবস'-এর বি…


অরুণ কুমার সাউ, মুরাদপুর: ইট-কাঠ-পাথরের চার দেওয়ালেই যে শুধু বসতবাড়ি গড়ে ওঠে না, ভালোবাসা আর আবেগ মিশলে তা যে স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে—তারই এক অনন্য নিদর্শন মিলল পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। ২৯ জুলাই 'মোহনবাগান দিবস'-এর বিশেষ তিথিতে সামনে এল এমন এক অনুভূতির গল্প, যা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর থানার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা অতনু সাউ। কর্মসূত্রে তিনি থাকেন স্বপ্নের শহর মুম্বাইতে। কিন্তু শরীর মায়ানগরীতে থাকলেও, তাঁর মন পড়ে থাকে শত যোজন দূরে তিলক মার্গ কিংবা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। শতাব্দী প্রাচীন মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা আর আবেগ থেকেই নিজের গ্রামের বাড়িটিকে সাজিয়ে তুলেছেন ভালোবাসার রঙে।অতনুবাবুর আস্ত বাড়িটি মুড়ে ফেলা হয়েছে মোহনবাগানের আইকনিক সবুজ আর মেরুন রঙে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি যেন কোনো আস্ত ক্লাবের প্রতীক। গ্রামের পথ চলতি মানুষ থেকে শুরু করে অনুগামী—সবাই এক নজরেই বুঝে যান, এটি কোনো সাধারণ আবাসন নয়, এটি এক পরম মোহনবাগান ভক্তের স্বপ্নের নিলয়। স্থানীয়দের মতে, এই বাড়ির প্রতিটি দেওয়াল আর ইট যেন প্রতিনিয়ত চিৎকার করে বলে ওঠে—"জয় মোহনবাগান"।

কাজের তাগিদে বছরের বেশিরভাগ সময় মুম্বাইতে কাটাতে হলেও ফুটবল আর ক্লাবের প্রতি টানে এতটুকু ভাটা পড়েনি অতনুর। বাড়ি ফিরলেই তিনি আর স্থির থাকতে পারেন না; কাজের ফাঁকে সময় সুযোগ পেলেই ছুটে যান সবুজ-মেরুনের ম্যাচ দেখতে।অতনু সাউয়ের কথায়: "মোহনবাগান আমার কাছে শুধু একটা ফুটবল ক্লাব নয়। এটি একটি অনুভূতি, একটি জীবনচর্চা এবং আমার অন্যতম পরিচয়।" ফুটবলপ্রেমী বাঙালির কাছে মোহনবাগান শুধু খেলা নয়, এক পরম সংস্কৃতি। অতনু সাউয়ের মতো হাজারো সমর্থকের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে। মোহনবাগান দিবসে চণ্ডীপুরের এই 'আবেগের বাড়ি' আজ ফুটবলপ্রেমীদের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।